কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সরকারি রাস্তায় বাঁশ ও গাছের খুঁটি গেঁড়ে বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় ১৫ পরিবারের সদস্যদের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের মধ্যম কাইচ্ছুটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার (২৪ জুন) সরেজমিন পরিদর্শন করে এ চিত্র দেখা গেছে।
ইউএনও কার্যালয়ে ভুক্তভোগীদের দাখিলকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আলকরা ইউনিয়নের কাইচ্ছুটি মৌজার ১ নম্বর বিএস খাস খতিয়ান ভূক্ত ১০৪৬ দাগে ১৪ শতক ভুমি দীর্ঘ বছর ধরে চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
সম্প্রতি একই গ্রামের প্রভাবশালী মো: অহিদুর রহমান ইচ্ছাকৃতভাবে চলাচলের রাস্তার মধ্যে বাঁশ ও গাছের খুঁটি গেঁড়ে বেড়া নির্মাণ করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
ফলে সরকারি রেকর্ডভূক্ত রাস্তায় স্থানীয় লোকজন, ছাত্র-ছাত্রী ও অসুস্থ রোগী এবং এ্যাম্বুলেন্স চলাচলে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। এছাড়াও দৈনন্দিন কাজে যেতে শিশু, নারী ও বৃদ্ধ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ইউএনও শাহাদাৎ হোসেন লিখিত অভিযোগের বিষয়টি আলকরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশরকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
প্যানেল চেয়ারম্যান প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, কাজী মো: ওবায়েদ ইবনে ওমর গং কর্তৃক আবেদনকৃত অভিযোগের জায়গাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। রাস্তার জায়গাটি বিএস জরিপে নকশার রাস্তায় কোনো জরিপ হয়নি।
কিন্তু ভূমি অফিস জানায়, ওই রাস্তার পাশে বিএস জরিপে লম্বা একটি দাগ আছে, ওই দাগের নাম্বার ১০৪৬ এবং জায়গার পরিমাণ ১৪ শতক। রাস্তার দক্ষিণ পাশে খায়েজ আহমদ ভূঁইয়া গংয়ের জমি, উত্তর পাশে নইলা নামে একটা পুকুর আছে। পশ্চিম পাশে অহিদুর রহমান নামক ব্যক্তির জমি ও পুকুর পাড়। দাগের জায়গা কোনো ব্যক্তির নামে বিএস রেকর্ড হয়নি। ফলে জায়গাটি ডিসির নামে অর্থাৎ খাস হিসেবে থেকে যায়। রাস্তাটি অনেক বছর আগের এবং মানুষের চলাচল ছিল। রাস্তাটি আট ফুট প্রস্থের হলেও তার চার ফুট অহিদুর রহমান ও খায়েজ আহমদ ভূঁইয়ার ভাই সেলিম ভূঁইয়া বাঁশের বেড়া দেয়ায় বর্তমানে তা চার ফুটে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে আব্দুল হামিদ বাচ্চু, রিয়াদ, মো: রুস্তম ও ওয়াজেদসহ ভুক্তভোগীরা বলেন, তাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে অন্তত ১৫ পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরের চলাচলে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় কারো মৃত্যু হলে লাশ বহনে কষ্ট হবে।
দ্রুত রাস্তাটি দখলমুক্ত করে পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে অহিদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের জায়গায় বেড়া দিয়েছি। গাড়ি ও মানুষ চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘রাস্তায় বাঁশ ও গাছের খুঁটি দিয়ে বেড়া দেয়ার তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। শিগগিরই প্রতিবেদন সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



