বরিশালের বাবুগঞ্জে সার ও কীটনাশকের দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা দুই হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার আগরপুর বাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে এসব জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।
জানা যায়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার আগরপুর বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না। এ সময় মেসার্স সুমন স্টোরের স্বত্বাধিকারী নুরুল ইসলামের দোকানে দুই হাজার লিটার জ্বালানি তেল পাওয়া যায়।
পরে জব্দকৃত দুই হাজার লিটার ডিজেল ও অকটেন সরকার নির্ধারিত দামে দুই লাখ ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও বেশি দামে বিক্রি করার অপরাধে কীটনাশক ব্যবসায়ী মেসার্স সুমন স্টোরের স্বত্বাধিকারী নুরুল ইসলামকে মোবাইল কোর্টে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, ‘অবৈধভাবে জব্দ জ্বালানি তেল স্থানীয় ট্রলার, ট্র্যাক্টর, স্পিডবোট, মাহেন্দ্রা ও মোটরসাইকেল চালকদের কাছে নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ শ’ লিটার ডিজেল এক লাখ ৬১ হাজার ও ৬০০ লিটার অকটেন ৮৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এছাড়া জরিমানার ১০ হাজার টাকাও সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।’
এনএসআই’র দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, তাদের গোয়েন্দারা গোপন পর্যবেক্ষণে জানতে পারেন, নুরুল ইসলাম নিজের সার ও কীটনাশকের দোকানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে তেল মজুত করে সরকার নির্ধারিত দামের থেকেও ৫০-৬০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করে আসছেন।
নুরুল ইসলাম বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের এসএম ট্রেডার্সের নামে মেঘনা অয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতেন। এরপর সেই তেল মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাবুগঞ্জের আগরপুর বাজারের নিজ দোকানে নিয়ে যেতেন। গোয়েন্দারা ওই তেলের গাড়ি অনুসরণ করে আগরপুর বাজারে এসে দেখতে পান, তাদের নিজ মালিকানাধীন মোট পাঁচটি দোকান ও দু’টি গোডাউন রয়েছে। এসব দোকানে তেল মজুত করতেন তিনি।
অভিযানে এনএসআই বরিশাল জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসন ও আগরপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



