যশোরের চৌগাছায় বেলেমাঠ-পেটভরা সড়কটি খানাখন্দে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে জনভোগান্তি চরমে। চৌগাছা পৌর শহরের বেলেমাঠ দামদর বটতলা থেকে নারায়নপুর বাজার পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার পিচের সড়ক এ সড়কটি দীর্ঘ দিন যাবৎ সংস্কার হয়নি।
গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থী, মূমুর্ষ রোগী ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে।
সরেজমিনে, বুধবার (২৪ জুন) দেখা গেছে, পৌর শহরের বেলেমাঠ ও উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের টেঙ্গুরপুরও নারায়নপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা, পেটভরা ও নারায়নপুর পর্যন্ত সংযুক্ত এ সড়কটির পুরো অংশে খানাখন্দে ভরে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মূল সমস্যার সম্মুখীন হন যাত্রী সেবায় নিয়োজিত ধীর গতির অটোরিকশা,ভ্যান ও কৃষি পণ্য বহনকারী যানগুলো।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এ সড়কটি অতিদ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বুধবার তারা এ সড়কে একটি মানববন্ধন করেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সড়কটি দিয়ে তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৩৫ গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। এ সড়কে বিখ্যাত পীর বলুহ দেওয়ানের মাজার রয়েছে। যে মাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর হাজরাখানা গ্রামের মেলা বসে। মেলা চলে ১৫ থেকে ২০ দিন।
এ মেলায় দেশ-বিদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ আসেন। এ ছাড়াও রয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান খ্যাত শিব মন্দীর। সেই সাথে মধুকবিমাইকেল মধুসুধনের সেই কপোতাক্ষ থাকায় এইউনিয়নে পর্যটকদের নিয়মিত আনাগোনা রয়েছে। অথচ সংস্কারের অভাবে পড়ে থাকা সড়কটিতে কারো নজর নেই। বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করা কয়েকশ যানবাহনের মধ্যকার দুয়েকটা ছোট-খাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে বলেও জানান স্থানীয়রা।
এদিকে এ এলাকার মানষের যাতায়াতের প্রধান ও অন্যতম সড়ক এটি। এমন দুরবস্থার সংস্কারে এখনো পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়নি সরকার।
এ সড়কে চলাচল করা অটোরিকশাচালক আশাদুল ইসলাম জানান, এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে আমাদের কষ্ট হয়। এ রাস্তা পুরাটাই ভাঙা অথচ সংস্কারের জন্য কেউ এগিয়ে আসে না। বিশেষ করে বৃষ্টির সময়ে রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে আমাদের গাড়ি এঁকে বেঁকে পড়ে যায়। আমরা দ্রুত সংস্কার চাই।
টেঙ্গুরপুর গ্রামের আব্দুল মুন্নাফ কালুমিয়া বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা এতোটাই খারাপ যে অসুস্থ রোগী আরো অসুস্থ হয়ে যায়। এ সড়কে চলাচল করা গাড়ীগুলো প্রায় প্রতিদিন একবার মিস্ত্রির কাছে গিয়ে গাড়ি ঠিকঠাক করা লাগে। বৃষ্টির দিনেতো রাস্তার উপর হওয়া গর্তে হাঁটু সমান পানি জমে থাকে।
হাজরাখানা গ্রামের মাসুদ রানা জানান, আমাদের এ রাস্তায় চলাফেরা এখন খুবই কষ্টকর। গাড়িঘোড়া চলাচলে খুব বেশি সমস্যা হয়ে যায়। এর ভেতর যদি বৃষ্টির দিন হয় তাহলে তো আমাদের ভোগান্তির শেষ নাই।
পেটভরা গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, ‘আমাদের চলাফেরা বেশ কষ্টকর। আমরা ভোগান্তি নিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করি। যদি এ রাস্তা ঠিক করে দেয় তাহলে আমাদের উপকার করা হবে।’
এ বিষয়ে নারায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহীনুর রহমান শাহীন বলেন, ‘এ রাস্তাটির বিষয়ে আমি আমাদের মাসিক মিটিংয়ে বলেছি। স্থানীয় প্রশাসন এ রাস্তা সম্পর্কে অবহিত আছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডু বলেন, ‘এ সড়কটি আমাদের কোর্ডের আওতাভুক্ত। আমাদের সব কার্যক্রমের কাগজপত্র জুলাই মাস হতে জমা শুরু হয়। এরপর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে গিয়ে টেন্ডার পাস হয়ে থাকে। স্থানীয় সংসদ স্যারের উদ্যোগে অতিদ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।



