ফেনীতে আগামী নির্বাচনে ইসলামপন্থিদের ঐক্য ভাবনায় মতবিনিময়

দেশের স্থায়ী শান্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামপন্থিদের ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এক বাক্স নীতিতে ইসলামপন্থিদের ঐক্য বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত হবে।

শাহাদাত হোসাইন, ফেনী অফিস

Location :

Feni
নয়া দিগন্ত

ফেনীতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইসলামপন্থিদের ঐক্য ভাবনা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে শহরের ডি রয়েল স্যালমন মিলনায়তনে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনটির জেলা সভাপতি মাওলানা মুফতী ইউসুফ কাসেমীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আল্লামা ফরিদ উদ্দিন আল মোবারক, সাধারণ সম্পাদক মুফতী রেজাউল করিম আবরার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতী শামসুদ্দোহা আশরাফী, জামায়াতে ইসলামীর ফেনী জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান, হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ওমর ফারুক, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী শাহ আলম বাদল, খেলাফত মজলিস ফেনী জেলার সাবেক সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ আলী মিল্লাত।

এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফেনী জেলা সভাপতি মাওলানা নাজমুল আলম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জেলা সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ, ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি মাওলানা একরামুল হক, জামিয়া মাদানিয়া ফেনীর নায়েবে মুহতামিম মুফতী আহমাদ উল্লাহ কাসেমী, ওলামা বাজার মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আবু সাঈদ, শর্শদী দারুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ইসমাইল হায়দার, মাদরাসাতুল হেদায়ার পরিচালক মুফতী মুহাম্মদ আলী, ওলামা বাজার মাদরাসার শিক্ষা পরিচালক মাওলানা আবদুল হালীম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আতিকুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুর রাজ্জাক।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘দেশের স্থায়ী শান্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামপন্থিদের ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এক বাক্স নীতিতে ইসলামপন্থিদের ঐক্য বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত হবে।’

তারা বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। এটি ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের ফসল। যেখানে ছাত্র থেকে যুবক, পুরুষ থেকে নারী, আলেম থেকে আওয়াম সকলের রক্ত ঝরেছে। দল-মত নির্বিশেষে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের মাধ্যমেই এ বিজয় অর্জিত হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজেদের সংকীর্ণ দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থে এ সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। যা জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।’

বক্তারা বলেন, ‘এ সরকার যেন বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নাতীতভাবে বাস্তবায়ন করে। একইসাথে উপদেষ্টা পরিষদ ও নারী অধিকার কমিশন, জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশনারের অফিস অনুমোদন বাতিল, মুফতী রেজাউল করিম আবরারের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিসহ অন্য সংস্কার কমিশন থেকে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অপসারণ করে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করর দাবি রইলো।’

তারা বলেন, ‘গোষ্ঠীগত স্বার্থে পরস্পর বিরোধে জড়ালে সকল পক্ষেরই ধ্বংস অনিবার্য। বর্তমান সঙ্কটকালে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা জরুরি। না হলে দেশ আবারো ফ্যাসিবাদ ও বৈদেশিক প্রভাবের ভয়াল ছোবলের মুখোমুখি হবে। চট্টগ্রাম বন্দর, রোহিঙ্গা সমস্যা ও অন্য জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষসমূহ এবং জাতীয় স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে গ্রহণযোগ্য ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে যেন জবাবদিহিতামূলক সরকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।‘

এছাড়া তারা মাইলস্টোন কলেজে শিক্ষার্থীদের হতাহতের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানায়।দ