ঈশ্বরদীতে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অবসরজনিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাকে অতিথি না করায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা ওই অনুষ্ঠানে হামলা করে মঞ্চ, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর ও ছাত্রদের জন্য রান্না করা খাবার নষ্ট করার ঘটনায় প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি করেছেন স্কুলের শিক্ষক, কমিটি ও এলাকাবাসী।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।
পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদার। একই সাথে এ ঘটনায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো: ফজলুর রহমান।
তার বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের বিদায় অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে হাবিবের অনুসারীরা হামলা চালায়।
এ সময় হুমায়ুন কবির দুলাল সরদার বলেন, হাবিবুর রহমান হাবিব কখনো কুড়াল প্রতীক নিয়ে ধানের শীষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, আবার কখনো নৌকা প্রতীক ব্যবহার করে বিএনপির রাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। তিনি দলকে ভালোবেসে নয়, বরং ব্যক্তিস্বার্থে রাজনীতি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপি নেতা দুলাল সরদার অভিযোগ করে বলেন, হাবিবের ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির কারণে পাবনা জেলা বিএনপিতে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। ঈশ্বরদীসহ আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বালুমহাল কেন্দ্রিক আধিপত্য বিস্তারে তার ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জনপ্রিয়তা হারিয়ে তিনি এখন অন্যের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেন বক্তারা। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানানো হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদার, বিএনপি নেতা মফিজ উদ্দিন মানিক, আবু তালেব ফকির, উপজেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক মুশফিকুর রহমান সজল, পাকশী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সোবাহান, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী কাজল, সাধারণ সম্পাদক কবির আহম্মেদ, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দীন সরদার, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল সরদার এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমানসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা জানান, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) উপজেলার জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলামের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অভিযোগ করা হয়, ওই অনুষ্ঠানে হাবিবকে অতিথি না করায় তার সমর্থক আবুল কাশেম, উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব মইনুল ইসলাম সরদার, সলিমপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিক, মনিকসহ ১৫-২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা মঞ্চ, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না করা খাবার নষ্ট করে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।



