নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১২) অপহরণের ঘটনায় জাইদুল হক (২০) নামে এক অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেইসাথে অপহৃত ওই শিক্ষার্থীকেও উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে মুন্সিগঞ্জ সদর থানা এলাকায় রূপগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী যুবককে গ্রেফতার করে এবং অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে।
গ্রেফতার জাইদুল হক রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেন্দুয়া এলাকার মারফত আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া ও হাতেম আলীর ছেলে।
মামলার বাদী সাবিনা আক্তার বলেন, আমার মেয়ে কাঞ্চন পৌরসভার একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। আমি, আমার স্বামী, এক ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেন্দুয়া এলাকার ফজর আলীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছি। আমার মেয়ে (১২) স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় স্থানীয় বখাটে জাইদুল হক প্রায় সময়ই কুপ্রস্তাব দিতো।
পরে বিষয়টি আমাকে জানালে ওই বখাটে জাইদুল হকের পরিবারকে বিষটি জানাই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বখাটে জাইদুল হক আমার মেয়েকে অপহরণ করে। ঘটনার দিন ২৫ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আমার মেয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় বখাটে জাইদুল হক তার চার-পাঁচজন অজ্ঞাত সহযোগীদের নিয়ে আমার মেয়েকে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলে।
পরে আমার মেয়ের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অপহরণকারী জাইদুল হক আমার মেয়েকে নিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় ওই দিনই জাইদুল হককে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করি। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার সত্যতা পেয়ে জানতে পারে জাইদুল হক আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।
পরে জাইদুল হকের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা ঘটনা স্বীকার করে বলে, পারলে মেয়েকে উদ্ধার করে দেখাতে। আবার তারা অপহৃতাকে ফেরত দিবে বলে কখনো কাঞ্চনের কেন্দুয়া আবার কখনো নারায়ণগঞ্জ কয়লার ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে বলে। কিন্তু অপহরণকারীদের দেয়া ঠিকানায় পুলিশসহ অপহৃতার পরিবারের লোকজন গেলে অপহরণকারীরা তাদের ব্যবহৃত মোবাইলফোন বন্ধ করে দেয়। এ যেন পুলিশের সাথে কানামাছি খেলার মতো মশকরা শুরু করে অপহরণকারীরা।
পরে মুন্সিগঞ্জ সদর থানা এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার চারদিন পর আজ আমার মেয়েকে উদ্ধার করে এবং অপহরণ চক্রের মূলহোতা জাইদুল হককে গ্রেফতার করে। আসামিরা এলাকার চিহ্নিত বখাটে ও মাদকসেবী তাই আমি ও আমার স্বজনরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আইনের কাছে এ ঘটনার সর্বোচ্চ বিচার চাই।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়েরের পর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহিম ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পায়। পরে বাদীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাইদুল হককে নামীয় ও তিন-চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে অপহরণ মামলা করা হয়।
তিনি আরো জানান, আজ (বুধবার) সকালে ওই মামলার একমাত্র নামীয় আসামি জাইদুল হককে মুন্সিগঞ্জের সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। সেইসাথে অপহৃত ওই শিক্ষার্থীকে (১২) উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় অপহণকারী জাইদুল হককে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।



