নেত্রকোনায় হাওরের পানিতে বোর ধান

জেলার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুড়ি উপজেলায় অতিবৃষ্টি কারণে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন হাওরের বোর ফসলের মাঠ।

Location :

Netrokona
হাওরের পানিতে কৃষক
হাওরের পানিতে কৃষক |নয়া দিগন্ত

খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
নেত্রকোনার খালিয়াজুড়িতে অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া বোর ধান কাটার মাঝে হাওরের পানিতে দাঁড়িয়েই খাবার খেতে হচ্ছে কৃষকের।

রোববার (৩ মে) সকাল ১০টার ওই উপজেলায় দিকে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

জানা যায়, নেত্রকোনা জেলার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুড়ি উপজেলায় অতিবৃষ্টি কারণে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন হাওরের বোর ফসলের মাঠ। কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে চায়ার হাওর নামে এরকম একটি বিশাল হাওর রয়েছে। যেখানে শতাধিক হেক্টর জমিতে বোর ধান লাগানো হয়েছে। একাধারে টানা বৃষ্টির কারণে ওই চায়ার হাওরের ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

সকালে চায়ার হাওরে ধান কাটানোর সময় কৃষক আব্দুর রহমানের ছেলে আবু কাসেম বলেন, ‘বৃষ্টি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ধান, তাছাড়া শ্রমিকের মূল্য বেশি এবং ধানের দাম কম। এ বছর আমাদের কৃষকের খরচের আসল টাকা পরিশোধ হবে না। তাই জমি করে কোনো লাভ নেই। আর জমি চাষাবাদ করব না। এত কষ্ট আর সহ্য হয় না।’

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, খালিয়াজুড়ি উপজেলায় ৮৯টি হাওরে প্রায় ২০২৩২ হেক্টর জমিতে বোর ধান লাগানো হয়। এর মধ্যে ১০৯২৩ হেক্টর (গড়ে ৫৪%) জমির ধান কাটা হয়েছে। বাকি ৪৫৮৫ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতার কারণে ২৭৮০ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে এবং ১৮০৫ হেক্টর জমির ধান প্রায় ৭৯% ক্ষতি হয়েছে। এখনো প্রায় ৪৭২৪ হেক্টর জমির ধান কাটা বাকি রয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টি থেমে রোদ হলে অল্প দিনের মধ্যেই ধান কাটা শেষ হবে ইনশাআল্লাহ।’

কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো: শামীম মড়ল বলেন, ‘আমাদের এলাকায় ধান কাটা শ্রমিকের খুবই সঙ্কট। বিগত চারদিন যাবৎ অতিবৃষ্টির কারণে জনপ্রতি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হয় এক হাজার পাঁচশ টাকা এবং দুই বেলা খাবার দিতে হয়।’

শ্রমিকর সর্দার কাসেম আলী বলেন, ‘আমরা ১০জন শ্রমিক প্রতিদিন সকালে ৮টার সময় ধান কাটা শুরু করে, বিকেল ৪টার সময় চলে যাই। এ সময়ের মধ্যে আমরা এক একর জমির ধান কাটিতে পারি। মহাজন-জমির মালিক আমাদেরকে জনপ্রতি দৈনিক দুই বেলা খাবারসহ এক হাজার পাঁচশত টাকা মজুরি দিয়ে থাকেন।’

বিএনপি সহসভাপতি ও কৃষ্ণপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: আবুল কালাম এবং কৃষ্ণপুর আলীম মাদরাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ও খালিয়াজুড়ি উপজেলা জামাতের আমির মো: ইসমাইল হোসেন বলেন, দিনের আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে শ্রমিকের মূল্য বেশি দিতে হয়। তাছাড়া ধানের মূল্য ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা থাকার কারণে আমাদের এলাকার কৃষকেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

ধানের মূল্য বৃদ্ধি করার জন্য তারা কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানায়।