ড. বদিউল আলম মজুমদার

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের ভিত্তি

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই আগামীর গণতন্ত্রের শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলে।

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
ময়মনসিংহে বক্তব্য দিচ্ছেন ড. বদিউল আলম মজুমদার
ময়মনসিংহে বক্তব্য দিচ্ছেন ড. বদিউল আলম মজুমদার |নয়া দিগন্ত

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই আগামীর গণতন্ত্রের শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।

সোমবার সকালে ময়মনসিংহ নগরের নতুন বাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক এক সংলাপে এস কথা বলেন তি‌নি।

ওই সংলাপের আয়োজন করে সুজনের ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর শাখা। এতে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের সুজন প্রতিনিধি ও নাগরিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি জনগণের মত প্রকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনো ধরনের বাধা, ভয়ভীতি কিংবা প্রভাব বিস্তার গণতান্ত্রিক চর্চাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালায় বাস্তবমুখী পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে প্রার্থিতা ও প্রচারণা সংক্রান্ত নিয়মগুলোকে আরো অংশগ্রহণমূলক করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে বলেছিলাম, শুধু ৫০০ ব্যক্তির স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা যেন সৃষ্টি হয় এবং এসব স্বাক্ষর যেন হলফনামার মাধ্যমে দেওয়া যায়। তাহলে এখন যেভাবে ১০ জনকে ডেকে আনা হয়, কারও কারও ক্ষেত্রে অভিযোগ আছে স্বাক্ষরকারীদের চাপ প্রয়োগ করার। এর মাধ্যমে একটি জালিয়াতির সুযোগ থেকে যায়। আমরা যে সংস্কার প্রস্তাব করেছিলাম, সেটি আরপিওতে সংযুক্ত হলে এ ধরনের কারসাজির আর সুযোগ ছিল না। দুর্ভাগ্যবশত নির্বাচন কমিশন এটি আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত করেনি।’

এবারের নির্বাচন ও প্রশাসনের আচরণ নিয়ে বিভিন্ন দলের অভিযোগের বিষয়ে সুজন সম্পাদক বলেন, যেহেতু এখন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীন নির্বাচন হচ্ছে, আশা করা যাচ্ছে, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা পালনের বিষয়টি সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করবে।

নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিক উত্তরণ দরকার জানিয়ে বদিউল আলম বলেন, এ সময় কতগুলো সুদূরপ্রসারী সংস্কার দরকার—আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার। এর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করবে এবং প্রতিবারই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। কিন্তু শুরু হতে হবে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। এ জন্য রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ—সবাইকেই ভূমিকা রাখতে হবে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উপযুক্ত কি না, এমন প্রশ্নে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘ব্যাপক দলীয়করণের কারণে গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেকে পালিয়ে গেছেন। কর্মকর্তা থেকে সাধারণ সিপাহি পালিয়েছেন। ভেঙে পড়া একটি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে গড়ে তোলা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। দলনিরপেক্ষ সরকার নিশ্চিত করবে, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে।’

বেলা পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে এই সংলাপ শুরু হয়। এতে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের ১০ জন প্রার্থীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির দলীয় প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ, জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী কামরুল আহসান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোস্তাক আহাম্মদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির লিয়াকত আলী ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী এমদাদুল হক।