গোলাম পরওয়ার

৫৪ বছরে সব দল পরীক্ষায় ব্যর্থ, দাঁড়িপাল্লাকে সুযোগ দিন

‘‘দেশের মানুষ এবার একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। এই পরিবর্তনের অর্থ হলো–যারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দলীয়করণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের আর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া যাবে না।’

Location :

Khulna
জামায়াতে ইসলামী খানজান আলী থানার উদ্যোগে শিরোমনি কেডিএ মার্কেট চত্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় মিয়া গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামী খানজান আলী থানার উদ্যোগে শিরোমনি কেডিএ মার্কেট চত্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় মিয়া গোলাম পরওয়ার |নয়া দিগন্ত

খুলনা ব্যুরো ও ফুলতলা সংবাদদাতা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৪ বছরে ক্ষমতায় থাকা প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে এবং ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। বারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে তারা সুশাসন, সততা ও নৈতিকতার পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। যারা এভাবে পরীক্ষায় ফেল করে, তাদের আবার সুযোগ দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ এবার একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। এই পরিবর্তনের অর্থ হলো–যারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দলীয়করণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের আর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া যাবে না।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জামায়াতে ইসলামী খানজান আলী থানার উদ্যোগে শিরোমনি কেডিএ মার্কেট চত্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খানজাহান আলী থানা জামায়াতের আমীর সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাকসু জি এস এস এম ফরহাদ, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা: মাহমুদা মিতু ও খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান। অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা দেন খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম ও অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদী, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি হরিদাস মন্ডল, খান গোলাম রসুল, উত্তর জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ ফকির, ফুলতলা উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি আব্দুল জালাল সরদার প্রমুখ।

জনসভায় গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এমপি ও মন্ত্রীরা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন না এবং সরকার হবে জনগণের সেবক। নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে গোলাম পরোয়ার বলেন, অতীতে তিনি সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদরাসা ও স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করেছেন। আবার নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেতু নির্মাণ, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং হাসপাতাল উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ করে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকবে। অতীতে মন্দির নির্মাণ ও ধর্মীয় উৎসবে সহযোগিতা করা হয়েছে। ডুমুরিয়া –ফুলতলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ।

ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, নির্বাচন শুরু হয়েছে ডাকসু দিয়ে। যে সকল কার্ড ডাকসু নির্বাচনে খেলা হয়, সে সকল কার্ড মোটামুটি শেষ। তারা বলেছিল নারীরা নাকি ভোট দেবে না। ডাকসুতে দেখেছেন তারা কত ভোট দিয়েছে! এবার সেই খেলা দেখবেন। তারা ডাকসু দিয়ে করার জন্য নানা উপায় চেষ্টা করেছে, কিন্তু তারা পারে নাই।

তিনি বলেন, আমরা তরুণ, যারা ২৪ এনে দিয়েছি, রক্তের মধ্য দিয়ে জীবনের বিনিময়ে। আমরা তরুণরা জীবনের প্রথম ভোট হাসতে হাসতে দেবো, ভিডিও করব, সেলফি তুলব, মোবাইল নিয়ে যাব, কেউ লুটপাট করলে তারে ফিরাব ইনশাআল্লাহ। তারা চেয়েছিল মোবাইল বন্ধ করবে আর তারা ব্যালট বক্স নিয়ে চিন্তা করবে, বাটপারি করবে, অস্ত্র নিয়ে ঢুকবে, আর কেউ ভিডিও করতে পারবে না, এই অবস্থা তারা করতে চেয়েছিল। আমরা করতে দেবো না।

তিনি বলেন, আপনাদের এলাকায় টাকা দিয়ে কি ভোট কেনা হয়? টাকা দেয় না অন্য প্রার্থী? জায়গায় জায়গায় টাকা দেয়, লুটপাট করে। আমি দেখলাম বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে অলমোস্ট ৬০ শতাংশ হচ্ছে ঋণখেলাপি। তার মানে হলো তারা ঋণখেলাপি, তারা এমপি হলে ব্যাংক লুটপাট করবে। আপনার আমার কষ্টে উপার্জিত টাকা যদি ব্যাংকে রাখলে, তারা লুটপাট করে চলে যাবে।

কিন্তু জনগণ জায়গা মতো ভোট দেবে। যতই খাওয়ান, ভোট কিন্তু আর কেউ দিবে না। মিষ্টি মিষ্টি হাসবে আর খাবে। পিছনে এসে বলবে জায়গা মতো ভোট দিবো। আমরা আশা করেছিলাম এবার বোধহয় মারামারি দেখব না। পরে হিসাব করে দেখলাম, পুরো বাংলাদেশে যত মারামারি হইছে, তার মধ্যে ৯০ ভাগের বেশি মারামারি তারা করছে। ব্যবসায়ীদের দোকানে চাঁদা, হুমকি খবর বাইরে গেলে মাইরা ফেলবে। ঢাকায় প্রকাশ্যে দিবালোকে হত্যা করছে। এবার একটা ঐতিহাসিক সময়। যদি ভুল করি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দায়ী থাকব। যারা জুলাইয়ে গুলির মুখে জীবন দিয়েছে, তারা ১২ তারিখে ভোট দেবে ইনশাআল্লাহ। আমরা ভেবেছিলাম পরিবর্তন হবে। কিন্তু যেই লাউ ছিল, সেই কদু। কোনো পরিবর্তন হয় নাই। আমরা এবার কাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত নেব।

‘নাম্বার ওয়ান সিদ্ধান্ত আমরা হ্যাঁ-তে ভোট দেবো। এই হ্যাঁ ভোটে তারেক রহমান ভয় পায়। আমরা হ্যাঁ দিয়ে দেখাব।’

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ডা: মাহমুদা মিতু বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য শুধু ক্ষমতার অভিজ্ঞতা নয়, নৈতিক চরিত্র ও জনগণের সমস্যা বোঝার যোগ্যতাও জরুরি।

তিনি বলেন, দিনাজপুরে তারেক রহমান ‘ম্যাংগো, ম্যাংগো’ বলেছেন, অথচ সেখানে লিচু উৎপাদন হয়। এটি প্রমাণ করে সাধারণ মানুষের বাস্তবতা না বুঝেই রাজনীতি করা হচ্ছে, যা হাস্যকর।

নারীদের প্রতি সহিংসতা ও ভীতি সৃষ্টির ঘটনায় কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, পটুয়াখালীতে গর্ভবতী নারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। যারা নারীদের ওপর অশুভ আচরণ করে, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্য নয়। চরিত্রহীন শক্তি নারীর সম্মানকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

মিতু ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ভোট বিক্রি মানে আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। যারা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ভোট জালিয়াতিতে জড়াবে, তাদের লাল কার্ড দেখাতে হবে।

সমাবেশে ভোটের দিন নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে ডা: মিতু বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা পাহারা দেবো। আমাদের ভাইয়েরা ভোটকেন্দ্রে থাকবে, কেউ ভোট দখল করতে পারবে না।