লক্ষ্মীপুরে স্বর্ণ-মোবাইলের জন্য ভাগ্নি-জামাইয়ের হাতে খুন হন বিধবা ছালেহা

গৃহবধূ ছালেহা বেগমের (৫৪) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। খুন হওয়ার এক সপ্তাহ পর ঘাতক মো: সেলিমকে গ্রেফতারের পর পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে।

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

Location :

Komol Nagar
সংবাদ সম্মেলন করে ছালেহা বেগমের হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানায় পুলিশ
সংবাদ সম্মেলন করে ছালেহা বেগমের হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানায় পুলিশ |নয়া দিগন্ত

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকালকিনি ইউনিয়নের মতিরহাট এলাকার গৃহবধূ ছালেহা বেগমের (৫৪) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। খুন হওয়ার এক সপ্তাহ পর ঘাতক মো: সেলিমকে গ্রেফতারের পর পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে।

তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে সোমবার রাজধানীর আশুলিয়া এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে, ১৫ জুন রাতে স্বর্ণ ও মোবাইল ফোন লুটে নিতে ভাগ্নি-জামাই সেলিমের হাতে ওই নারী খুন হন।

মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) দুপুরে কমলনগর থানায় সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানান, গত ১৬ জুন উপজেলার মতিরহাট মেঘনা নদীর তীরবর্তী একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে ছালেহা বেগম নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সোমবার রাতে ঢাকার আশুলিয়া সেনা মার্কেট এলাকা থেকে সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় স্থানীয় একটি জুয়েলারি দোকান থেকে নিহতের কাছ থেকে লুটে নেয়া প্রায় এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার সেলিম উপজেলার চরশামছুদ্দিন এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে। ভ্রাম্যমাণ শরবত বিক্রেতা সেলিম নিহত ছালেহার ভাগ্নি-জামাই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। খালা শাশুড়ির সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন শেষে সাথে থাকা স্বর্ণ ও মোবাইল লুটে নিতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেলিম ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

ওসি জানান, মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম আরো বলেন, ঘটনার দিন রাতে ভাগ্নি-জামাই সেলিম জরুরি কথা আছে জানিয়ে মোবাইলফোনে কল করে খালা শাশুড়ি ছালেহাকে ঘরের বাইরে ডেকে নেন। একপর্যায়ে সে কৌশলে ছালেহাকে স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে বিভিন্ন প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে ছালেহার সাথে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল লুটে নিতে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন। একপর্যায়ে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর স্বর্ণ ও মোবাইল লুটে নিয়ে তিনি পালিয়ে গিয়ে ঢাকায় আত্মগোপনে থাকেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন দুপুরে ছালেহা বেগমের (৫৪) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিন ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছালেহা উপজেলার চরকালকিনি ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মরহুম শাজাহানের স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি স্থানীয় ছিদ্দিকুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে গোপনে বিয়ে করেন। এই বিয়েকে কেন্দ্র করে ছেলেদের সাথে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর থেকে ছেলেরা বাড়িতে মাকে নানীর সাথে রেখে অন্যত্র স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। ওই বাড়িতে বৃদ্ধা মায়ের সাথে ছালেহা থাকতেন।