ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মানিক মিয়া (৪৫) নামে এক অটোরিকশা চালককে হাত-পা বেঁধে বুকে, পেটে ও হাতেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোর রাতে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মুত্যু হয়।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার খেরুয়াজানী ইউনিয়নের ভিটিবাড়ী বাজারের পূর্ব দিকে রমজান আলীর ফিশারির পাশে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে যায়।
নিহত মানিক মিয়ার বাড়ি পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নের বাসনা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের হজরত আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা রাস্তা দিয়ে যাবার সময় ভিটিবাড়ী বাজারের পূর্বপাশে রমজান আলীর ফিশারির কাছে অটোরিকশা চালক মানিক মিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সেখানে তার হাত-পা বাঁধা ও শরীর রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত মানিক মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোর রাতে তার মৃত্যু হয়। উদ্ধারের সময় নিহত মানিক মিয়ার বুকে, পেটে ও হাতেসহ শরীর বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
ধারণা করা হচ্ছে, মানিক মিয়া বাড়ি ফিরার পথে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে হাত-পা বেঁধে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে সেখানে ফেলে রেখে গেছে। তবে তাকে কারা, কী কারণে হত্যা করেছে পরিবারের কেউ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: লুৎফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশ ময়মনাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। হত্যার কারণ ও হত্যাকারী কারা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় মামলা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।



