ডিমলায় সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী, ইউএনওর নির্দেশের পরও হয়নি অপসারণ

ইউএনও বলেন, ‘নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা পাওয়ায় সেগুলো অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় একই সামগ্রী ব্যবহার করা হলে ঠিকাদারের বিল স্থগিতসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Location :

Dimla
সংস্কার কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
সংস্কার কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ |নয়া দিগন্ত

মো: রেজোয়ান ইসলাম ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
নীলফামারীর ডিমলায় বাবুরহাট জিসি-ডালিয়া আরঅ্যান্ডএইচ সড়কের ভায়া শুটিবাড়ি অংশের সংস্কার কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। পরে উপজেলা প্রশাসনের সরেজমিন পরিদর্শনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট উপকরণ অপসারণের নির্দেশ দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, একই উপকরণ ব্যবহার করেই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের মান, তদারকি ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় বাবুরহাট জিসি-ডালিয়া আরঅ্যান্ডএইচ সড়কের ভায়া শুটিবাড়ি অংশ সংস্কারের জন্য দুই কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩১৫ টাকার প্রাক্কলন করা হয়। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে দুই কোটি ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৯ টাকা ২৫ পয়সায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়। গত ১৮ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ১৮ মে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় অতিক্রমের পরও প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত পুরোনো কার্পেটিংয়ের উপকরণ পুনর্ব্যবহার, রাবিশ মিশ্রিত খোয়া দিয়ে বেজ প্রস্তুত এবং সড়কের বিভিন্ন অংশে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, নির্ধারিত মান বজায় না রেখে কাজ শেষ করা হলে সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশ কার্যকর না হয়ে বরং একই উপকরণ ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের সিডিউল, নকশা ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতেও নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও তদারকি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আরো জোরালো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হরমুজ আলী বলেন, ‘ইউএনও নিজে এসে নিম্নমানের খোয়ার বিষয়টি দেখে সেগুলো সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো সেই উপকরণ সরানো হয়নি। বরং সেগুলো দিয়েই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা সবুর খান বলেন, ‘সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত না হলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা জামিনুর রহমান, একাব্বর আলী, হামিদুল হক ও মাজেদ হোসেন বলেন, রাবিশ মিশ্রিত খোয়া ও নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মাণ করা হলে সড়কটি বেশিদিন টিকবে না। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নীলফামারী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ফিরোজ হাসান বলেন, ‘অভিযোগ তদন্তে জেলা কার্যালয় থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কাজ বন্ধ, বিল স্থগিত, জামানত জব্দসহ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উপজেলা প্রকৌশলী মো: মফিজুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

ডিমলার ইউএনও মো: ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা পাওয়ায় সেগুলো অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় একই সামগ্রী ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিল স্থগিতসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’