দেওয়ানগঞ্জে ভাসমান ব্রিজ ট্রাজেডি

২ সন্তান হারিয়ে ৪ দিন ধরে অচেতন মা, আহাজারি থামেনি বাবার

ঈদের দিন আমি তিনসন্তানসহ ভাসমান ব্রিজ পার হচ্ছিলাম। ব্রিজের মাঝখানে গেলে বেশ কয়েকজন বখাটে ছেলে ব্রিজে ঝাকুনি দিতে থাকলে ব্রিজটি উল্টে যায়।

খাদেমুল ইসলাম, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)

Location :

Dewanganj
উল্টে গেছে ভাসমান ব্রিজ, পানিতে ডুবে মারা গেছে পাঁচ শিশু
উল্টে গেছে ভাসমান ব্রিজ, পানিতে ডুবে মারা গেছে পাঁচ শিশু |নয়া দিগন্ত

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ড্রাম দিয়ে তৈরি ভাসমান ব্রিজ উল্টে দুই শিশুসন্তানকে হারিয়ে এখনো স্বাভাবিক হতে পারেননি বাবা-মা। দুর্ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও সন্তানদের শোকে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন মা মর্জিনা। এখনো অচেতন হয়ে পড়ে রয়েছেন বিছানায়। এদিকে আহাজারি থামেনি বাবারও।

জানা যায়, উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের হলকারচর ফুটানি বাজার এলাকার কৃষক জয়নাল ও মর্জিনা দম্পতির বিয়ের দীর্ঘ ১৩ বছর পর তিন সন্তানের জন্ম হয়। এর মধ্যে দুই সন্তানই পানিতে ডুবে মারা যাওয়ায় অনেক আঘাত পান বাবা-মা।

নিহত ‍দুই শিশুর বাবা জয়নাল আবেদীন নয়া দিগন্তকে বলেন, ঈদের দিন আমি তিনসন্তানসহ ভাসমান ব্রিজ পার হচ্ছিলাম। ব্রিজের মাঝখানে গেলে বেশ কয়েকজন বখাটে ছেলে ব্রিজে ঝাকুনি দিতে থাকলে ব্রিজটি উল্টে যায়। এতে তিন বাচ্চাসহ আমি পানিতে পড়ে যাই। জীবন বাজি রেখে এক কন্যাশিশুকে রক্ষা করতে পারলেও দুই শিশু পানিতে ডুবে মারা যায় আমার চোখের সামনে। এছাড়া এ ঘটনায় আরো তিন শিশু মারা যায়।

এর আগে, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ঈদের দিন (২১ মার্চ) বিকেলে ব্রহ্মপুত্র নদে ড্রাম দিয়ে তৈরি ভাসমান ব্রিজ পারাপারকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশত মানুষ।

নিহতরা হলো— আবির হোসেন (১৫), আব্দুল মোতালেব (৬), খাদিজা (১২), জয়নাল ও মর্জিনা দম্পতির দুই সন্তান মায়ামনি (১০) ও মিহাদ হাসান (১৩)।

জানা যায়, দুর্ঘটনার পর সাঁতার জানা নারী-পুরুষ সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও পাঁচ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ পরিবারের মাঝে ২৫ হাজার টাকা হিসেবে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সহায়তা প্রদান করেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: মুরাদ হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো: খবির উদ্দিনসহ অন্যরা।

দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: মুরাদ হোসেন, দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমদ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ অনেকেই।

এ ব্যাপারে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদকে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা বলা হয়েছে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।