বড়াইগ্রামে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি

মাদক কারবারিদেরকে ছাড়াতে রাজনৈতিক নেতারা তদ্বির করেন

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের উদ্যোগে মাদক সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ বিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা

Location :

Natore
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি আশিক সাঈদ
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি আশিক সাঈদ |নয়া দিগন্ত

পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি প্রত্যেক থানা এলাকায় কারা মাদক কারবারে জড়িত, সেটা পুলিশের অজানা নয়। কিন্তু আমরা যখন মাদক কারবারিদের আটক করি, তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাদেরকে ছাড়ানোর জন্য ওঠে-পড়ে লাগেন, তদ্বির শুরু করেন। কিন্তু আইনের যথার্থ প্রয়োগ করতে না পারলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো হবে কীভাবে?’

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের উদ্যোগে মাদক সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ বিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিআইজি আশিক সাঈদ বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর পুলিশকে একটি দলের লেজুড়বৃত্তিতে জঘন্যভাবে ব্যবহারের প্রতিফলন হিসাবেই আমাদেরকে ৫ আগস্ট দেখতে হয়েছে। বিগত দিনে পুলিশের যে বিতর্কিত ভূমিকা ছিল, সেখান থেকে আমরা পরিত্রাণের চেষ্টা করছি। আমরা জানি থানাগুলো এখনো পুরোপুরি জনবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি। তবে আমরা জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছি। সেজন্য আপনাদের পুরোপুরি সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশের কেউ যদি মাদক কারবার বা সেবনের সাথে জড়িত থাকে তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স ভূমিকা নিয়েছে। মাদক প্রতিরোধ করতে না পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।’

বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোভন চন্দ্র হোড়ের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ। সভায় নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক, বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের উপজেলা সভাপতি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এম লুৎফর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা বয়েত রেজা, সাবেক মেয়র ইসাহাক আলী, জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যক্ষ আশরাফ আলী, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আবুল হোসাইন, জোয়াড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আলী আকবর, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম মোল্লা ও সন্ত্রাসী হামলায় নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নূর বাবুর সহধর্মিণী মহুয়া নুর কচি বক্তব্য রাখেন।