খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে বন্যা মোকাবেলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আগাম প্রস্তুতি জোরদার এবং দুর্যোগকালীন করণীয় সম্পর্কে স্থানীয়দের সচেতন করতে বৃহৎ ‘বন্যার পূর্বপ্রস্তুতি ও আগাম সাড়াদান মহড়া’ অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের ভূমি অফিস সংলগ্ন মাঠে ওই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
খালিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত মহড়া অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বাস্তবায়নে ছিল সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস)।
উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মো: ফয়সাল আহমেদের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আবু ইসহাক।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অলিদুজ্জামান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার মো: রহুল আমিন, খালিয়াজুরী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তালুকদার।
এতে বক্তব্য রাখেন খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো: ফুল মিয়া, সদর ইউনিয়ন ৩ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার রিয়াজউদ্দিন তালুকদার সুখন, সদর ইউনিয়নের নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌউস আরা, সদর ইউনিয়ন ৪ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো: মজলু মিয়া, সিএনআরএস-এসআরএসপি প্রকল্পের এপিসি মো: জিয়াউর রহমান, খালিয়াজুরী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রীতি ভূষণ দাশ।
এ সময় বক্তারা বলেন, নেত্রকোনা জেলার মধ্যে খালিয়াজুরী উপজেলা সবচেয়ে অনুন্নত, দুর্গম, অবহেলিত ও বন্যাপ্রবণ উপজেলা। উত্তরের পাহাড়ি ঢলে সহজেই খালিয়াজুরী হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। তাই বন্যার আগেই সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কোনো বিকল্প নেই।
বক্তারা আগাম সতর্কবার্তা দ্রুততম সময়ে জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরের প্রস্তুতি গ্রহণ, জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সংরক্ষণের ওপর জোর দেন।
এ সময় বক্তারা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি এবং বন্যাপ্রবণ জনগোষ্ঠীর সহযোগিতা ও হাওরের আবহাওয়া জলবায়ু পরিবর্তনে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খালিয়াজুড়ি উপজেলার জেলে, কৃষক, তাঁতী, ঈমাম-মোয়াজ্জিন, শিক্ষক, কর্মচারী, সুশীল সমাজের লোকজনসহ প্রায় দুই শতাধিক লোকজন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সঙ্গীত পরিচালনা করেন হাওর কালচারাল অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা বর্ষা সরকার পপি।



