ভারতীয় গরু নিয়ে শঙ্কায় দোয়ারাবাজারের খামারিরা

কোরবানির হাট শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগ থেকে সীমান্ত দিয়ে পশু অনুপ্রবেশ করায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা। যার কারণে বাধ্য হয়ে খামারিদের কমদামে গরু বিক্রি করতে হয়।

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Dowarabazar
দোয়ারাবাজারে কোরবানির গরুর হাট
দোয়ারাবাজারে কোরবানির গরুর হাট |নয়া দিগন্ত

আগামী (৭ জুন) মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহাকে (কোরবানির ঈদ) সামনে রেখে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ভারতীয় গরু প্রবেশের শষ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও খামার মালিকরা।

খামার মালিক ও গৃহস্থরা জানায়, খাদ্য, চিকিৎসা ও বিদ্যুৎ বিলসহ শ্রমিকের মজুরি বাড়ার কারণে পশুপালনের ব্যয়ভার এবার দ্বিগুণ বেড়েছে। এতে গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম চড়া না হলে বিপাকে পড়বেন কৃষকসহ উপজেলার খামারিরা। এছাড়া সম্প্রতি সীমান্তের বিভিন্ন স্পটে অবৈধ পন্থায় দেদারসে দেশে ঢুকছে ভারতীয় গরু-মহিষ। ফলে ভয়াবহ দুশ্চিন্তায় পড়েছি খামার মালিক ও গৃহস্থরা।

জানা গেছে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবার সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় চাহিদার চেয়ে বেশি পশু উৎপাদন করা হয়েছে। এতে উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত পশু পাশের এলাকগুলোতেও সরবরাহ করা যাবে। তবে দোয়ারাবাজার উপজেলা ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় অবৈধ পথে পশু প্রবেশের আশঙ্কা করছেন খামারি ও গৃহস্থরা। এতে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

তারা বলছেন, কোরবানির হাট শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগ থেকে সীমান্ত দিয়ে পশু অনুপ্রবেশ করায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা। যার কারণে বাধ্য হয়ে খামারিদের কমদামে গরু বিক্রি করতে হয়।

এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের দাবি, এবার দোয়ারাবাজার সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পশু চোরাইভাবে যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সীমান্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন তারা। বাড়ানো হয়েছে টহল ও নজরদারি। পাশাপাশি দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশেরও একই বক্তব্য।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র মতে, উপজেলায় গরুর খামার রয়েছে ৭০টির অধিক। আসন্ন ঈদে নয়টি স্থায়ী পশুর হাটের অনুমতি দেয়া হয়েছে। কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে ২২ হাজারের অধিক। চাহিদা রয়েছে ১৭ হাজার। উপজেলার চামিদা মিটিয়ে এসব পশু পাশের জেলাগুলোতে সরবরাহ করা যাবে।

উপজেলার জোহান এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী তাজুল ইসলাম জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবার বেশ কয়েকটি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। বেশিভাগ গরুই বড় আকৃতির। ফার্মের সবগুলো গরু তিন লাখ টাকার উপরের দামের। ভারত থেকে অবৈধ পথে বাংলাদেশে গরু না এলে এবার খামারিরা লাভবান হবেন।

বাংলাবাজার এলাকার খামারি নুর মোহাম্মদ বলেন, গত বছর দোয়ারাবাজারে ভারতীয় গরু আসার কারণে ব্যবসায় লোকসান হয়েছে। এবার ঘরোয়াভাবে কয়েকটি গরু লালন-পালন করেছি। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক থাকলে দেশী গরুর কদর বাড়বে এবং আমরাও ন্যায্যমূল্য পাবো।

দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অবৈধ পথে ভারত থেকে যাতে দেশে পশু আসতে না পারে, সেজন্য স্থানীয়দের সমন্বয় করে আমরা কাজ শুরু করেছি। পশুবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন স্থানে হয়রানি যাতে না হয় সেদিকেও বিশেষ নজর দেয়া রয়েছে। উপজেলার পশুর হাটগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও খামারি, গৃহস্থ ও ক্রেতাদের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে ভারতীয় গরু প্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। চোরাকারবারিদের টার্গেটকৃত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত দু'দিনে (শুক্রবার ও শনিবার) সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত থেকে গরু-মহিষসহ আড়াই কোটি টাকার উপরে চোরাই পণ্য আটক ৪৮ বিজিবি।