২ কোটি টাকার সড়কে নিম্নমানের খোয়া, বর্ষার আগেই ধসে পড়ার শঙ্কা

তিন কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে দুই কোটি ২০ লাখ টাকা। কাজ পেয়েছে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইএসবি এন্টারপ্রাইজ’ এবং বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন সারোয়ার হোসেন।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
নান্দাইল-বাকচান্দা সড়কে সংস্কারকাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার
নান্দাইল-বাকচান্দা সড়কে সংস্কারকাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহের নান্দাইলের নান্দাইল-বাকচান্দা সড়কে দুই কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান সংস্কারকাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এভাবে কাজ চললে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি টিকবে না।

উপজেলা এলজিইডি সূত্র জানায়, তিন কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে দুই কোটি ২০ লাখ টাকা। কাজ পেয়েছে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইএসবি এন্টারপ্রাইজ’ এবং বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন সারোয়ার হোসেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাকা সড়কের পুরোনো কার্পেটিং তুলে তা গুঁড়ো করে আবার বিছিয়ে দেয়া হয়েছে। তার ওপর ফেলা হচ্ছে ইটের খোয়া। অভিযোগ উঠেছে, এই খোয়া নিম্নমানের। রোলার চলতেই তা গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। পানি ছিটিয়ে লালচে রং উজ্জ্বল করে ভালো মানের খোয়া ব্যবহারের ছাপ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন পর কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু কাজের মান যদি এমন হয়, তাহলে কয়েক মাস পরই রাস্তা ভেঙে যাবে। এতে ভোগান্তি কমবে না, বরং বাড়বে।

কাজের তদারককারী সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘সিডিউলে নতুন ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা নেই। পুরোনো অ্যাজিং ভেঙে খোয়া করা হয়েছে।’

তবে নিম্নমানের খোয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেখানে সমস্যা আছে, তা পরিবর্তন করা হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বিশ্বাস জানান, অভিযোগের পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু নিম্নমানের খোয়া পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এস্টিমেটে ইটের খোয়া ধরা নেই। পুরোনো অ্যাজিং ভেঙে ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিম্নমানের ছিল। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

স‌চেতন মহ‌লের দাবি, দুই কোটি ২০ লাখ টাকার প্রকল্পে যদি সিডিউলে খোয়া না থাকে, তাহলে মাঠে খোয়া ব্যবহারের যৌক্তিকতা কি? তদারকির ঘাটতি আছে কি-না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, কাজের মান নিশ্চিত না করে বিল পরিশোধ করা হলে, তা হবে জনগণের অর্থের অপচয়। বর্ষা আসার আগেই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ কারিগরি যাচাই ও স্বচ্ছ তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।