মুন্সীগঞ্জে ‘গজারিয়ার ইয়াবা বদি’ লিটন কসাই গ্রেফতার

স্থানীয়ভাবে ‘গজারিয়ার ইয়াবা বদি’ নামে পরিচিত এ ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কসাই পেশার আড়ালে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। তার নামে মাদক ও হত্যাসহ মোট ১৫টি মামলা রয়েছে।

আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ

Location :

Munshiganj
১৫ মামলার আসামি লিটন কসাই
১৫ মামলার আসামি লিটন কসাই |নয়া দিগন্ত

মুন্সীগঞ্জ গজারিয়ার কুখ্যাত মাদককারবারি লিটন কসাই (৪০) অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। স্থানীয়ভাবে ‘গজারিয়ার ইয়াবা বদি’ নামে পরিচিত এ ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কসাই পেশার আড়ালে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। তার নামে মাদক ও হত্যাসহ মোট ১৫টি মামলা রয়েছে।

রোববার (১০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভবেরচর ইউনিয়নের আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার লিটন কসাই গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের ফিরোজ কসাইয়ের ছেলে। তবে আগে তিনি গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে বসবাস করতেন।

গজারিয়া থানার নথি অনুসারে, লিটনের বিরুদ্ধে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ১৫টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৮টি মামলা (ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল বিক্রি ও পরিবহনের অভিযোগে), হত্যা মামলায় ২টি, অস্ত্র মামলায় ২টি (লাইসেন্সবিহীন বিদেশী পিস্তল ও গুলি উদ্ধার) ও চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ৩টি মামলা রয়েছে। এ মামলাগুলোর মধ্যে অন্তত পাঁচটিতে আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, লিটন কসাই ভবেরচর, বাউশিয়া, গুয়াগাছিয়া ও ভরট এলাকাজুড়ে একটি সুসংগঠিত ইয়াবা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। কসাইখানা ও মাছের ব্যবসার আড়ালে গোপনে ইয়াবা ও ফেনসিডিল সরবরাহ করতেন তিনি।

পুলিশের গোপন প্রতিবেদন বলছে, তার নিয়ন্ত্রণে অন্তত ২০-২৫ জন সক্রিয় মাদককারবারি রয়েছে। যারা নদীপথে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে ঢাকার কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে সরবরাহ করত।

এদিকে মাদক বিক্রির অর্থে লিটন কসাই ভবেরচর ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় তিনটি দোতলা বাড়ি, একটি মাছের ঘের ও একাধিক দামি প্রাইভেট কারের মালিক হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তার এ সম্পদের কোনোটিরই বৈধ আয়ের উৎস নেই।

ভবেরচর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘লিটনের কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের পথে যাচ্ছিল। তাকে গ্রেফতার করায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। তবে তার নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদেরও দ্রুত আটক করতে হবে।’

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, ‘লিটন গজারিয়ার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। হত্যা, মাদক, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও মারামারির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মোট ১৫টি মামলা রয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধরার চেষ্টা করছিলাম। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।’