সরকারি চাকরিতে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভাতে ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি নম্বর যুক্ত করার প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৯ সেপেম্বর) রাতে এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ঘরে ঘরে খবর দে, ভাইভা প্রথার কবর দে’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘মেধা না ভাইভা, মেধা মেধা’, ‘দিকে দিকে খবর দে, ভাইভা কোটার কবর দে’, ‘নব্য কোটার নাম কী, ভাইভা ছাড়া আবার কী’, ‘ভাইভার নামে দলীয়করণ, চলবে না চলবে না’, ‘ভাইভার নামে প্রহসন, রুখে দাও জনগণ’, ‘নিয়োগ নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না’, ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, দলের লোকে চাকরি পায়’, ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, চাকরি হবে পয়সায়’, ‘ভাইভাতে নিয়োগদান, নিয়োগ ব্যবসার অপর নাম’, ‘ভাইভাতে নিয়োগদান, দলীয়করণের অপর নাম’ প্রভৃতি শ্লোগান দেন।
পরে প্রধান ফটকে সমাবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বক্তব্য রাখেন ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মাহমুদ, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিবলি, সোসিওলজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তারেক, গণিত বিভাগের ১৪তম ব্যাচের ইমরান আহমেদ, অর্থনীতি বিভাগের ১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ফ্যাসিস্ট, পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা কোটা পদ্ধতিতে ছাত্রলীগকে নিয়োগ দিয়ে দেশের বারোটা বাজিয়েছে। যার খেসারত দিচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার কোটা প্রথায় যেতে না পেরে দলীয় লোককে চাকরিতে নিয়োগ দিতে ভাইভাতে বেশি নম্বর করার প্রস্তাবনা দিয়েছে। বিএনপির এক এমপি বলেছিলেন, লিখিত পরীক্ষায় পাশ করে আসো, ভাইভাতে দেখব। ভাইভাতে এই দেখার জন্যই দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়োগ দিতে ভাইভাতে নম্বর বেশি করার প্রস্তাবনা এনেছে বর্তমান সরকার।
বক্তারা আরো বলেন, অবিলম্বে মেধার ভিত্তিতেই সকল সরকারি চাকরি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ভাইভার নাটক সাজানো যাবে না। অবিলম্বে এই প্রস্তাব বাতিল করা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাবে সারা বাংলার শিক্ষার্থীরা।



