রাজশাহীর দুর্গাপুরে পৈত্রিক ভিটায় বেড়াতে এলেন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন মার্গারিটা মামুন। রিও অলিম্পিকের ঝলমলে সোনালি মঞ্চ থেকে বহুদূরে, বাংলার মাটির উঠানে তার ফেরা ছিল একেবারেই ব্যক্তিগত, আবেগময় এবং স্মৃতিবিধুর।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুর্গাপুর উপজেলার ক্ষিদ্র কাশিপুর গ্রামের পৈতৃক বাড়িতে সময় কাটান তিনি।
এ সফর কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সংবর্ধনা কিংবা আনুষ্ঠানিকতার জন্য নয়, বরং এটি ছিল এক অলিম্পিক জয়ী মেয়ের নিজের শিকড় ও প্রিয় বাবার স্মৃতির কাছে ফিরে আসার গল্প।
জানা গেছে, রাশিয়ার হয়ে ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ী এ বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ক্রীড়াবিদের পৈতৃক বাড়ি দুর্গাপুরের ক্ষিদ্র কাশিপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি পঞ্চম সেন্ট্রাল সাউথ এশিয়ান আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
স্থানীয়রা জানান, মার্গারিটা মামুন সবশেষ ২০০৫ সালে বাবার সাথে এ বাড়িতে এসেছিলেন। ২০১৬ সালে তার বাবা আব্দুল্লাহ আল মামুনের মৃত্যুর পর এ প্রথম তিনি পৈতৃক ভিটায় এলেন।
মামুনের ফুপাতো ভাই ও প্রভাষক শামসুজ্জোহা বলেন, ‘মার্গারিটা এখন আমাদের গর্ব। তিনি স্বল্প সময়ের জন্য এলেও, তার এই আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।’
স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিক মিজান মাহি বলেন, ‘অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন মার্গারিটা মামুনের মরহুম বাবার পৈত্রিক ভিটা আমাদের গ্রামের পাশেই অবস্থিত। তিনি আমাদের এলাকার গর্ব। তাকে এক নজর দেখার জন্য এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন, যা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।’
এর আগে ২০০৯ সালে প্রথমবার বাংলাদেশ সফরে আসেন তিনি। পরে ২০২১ সালে দক্ষিণ এশীয় জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপ উপলক্ষে ঢাকায় এসে দেশের জিমন্যাস্টিকস উন্নয়নে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
তবে এবারের সফর একেবারেই আলাদা। একজন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নের দেশে ফেরা নয়, বরং এটি এক মেয়ের, বহুদিন পর নিজের শিকড়, নিজের মানুষ এবং বাবার স্মৃতির কাছে ফিরে আসা।



