বাগেরহাট-১ আসনে ইতিহাস গড়লেন জামায়াতের মশিউর রহমান

‘দেশের মানুষ জুলুমের জাঁতাকল থেকে মুক্তি পেয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাকে মানুষের খেদমত করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমানতদারী ও দায়িত্বশীলতার স্থান থেকে কাজ করব। আমার কাছে সংখ্যাগুরু আর সংখ্যালঘু কোনো বিভেদ নেই। সকলের একটাই পরিচয় আমরা বাংলাদেশী।’

Location :

Bagerhat
বাগেরহাট-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খান
বাগেরহাট-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খান |নয়া দিগন্ত

চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক খ্যাত বাগেরহাট-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খান ইতিহাস গড়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডলকে পরাজিত করে এ আসনে জয়লাভ করেন। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই প্রথম বাগেরহাট-১ আসনে সংসদ সদস্য পেলেন।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খানের জয়লাভে বাগেরহাট-১ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলমীর নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একাত্তরের পর ১৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারমধ্যে বাগেরহাট-১ আসনে (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট) দুইবার বিএনপির দু’জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাকি ১০ বারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খান এক লাখ ১৭ হাজার ৫২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল পেয়েছেন এক লাখ ১৪ হাজার ৩২৩ ভোট।

অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান ১৯৬৮ সালে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার আড়ুয়াবর্নী চরপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সুলতান আহমদ খান ও মাতা আছিয়া বেগম। তারা আট ভাই-বোন। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি চতুর্থ। দাম্পত্য জীবনে তার দুই মেয়ে ও দুই ছেলেসন্তান রয়েছে।

আড়ুয়াবর্নী ডরপাড়ার একটি মক্তবে অধ্যক্ষ মশিউর রহমান শিক্ষাজীবন শুরু করেন। পরে আড়ুয়াবর্নী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। ১৯৭৫ সালে হিজলা আলিম মাদরাসায় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৮০ সালে দাখিল পাশ করেন। ১৯৮২ সালে ওই মাদরাসা থেকে আলিম পাশ করেন তিনি। ১৯৮৪ সালে রহমতপুর ফাজিল মাদরাসা থেকে ডিগ্রি পাশ করেন। ১৯৮৬ সালে পিরোজপুরের ছারছিনা দারুস সুন্নাহ আলিয়া মাদরাসা থেকে হাদিস বিভাগে কামিল পাশ করেন অধ্যক্ষ মশিউর রহমান।

রাজনৈতিক জীবনে ১৯৮২ সালে ছাত্রশিবিরের সমর্থক হিসেবে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৩ সালে ছাত্রশিবিরের কর্মী হন। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। ১৯৯২ সালে সদস্য পদ লাভ করেন। তৎকালীন কর্মস্থল মাগুরা পৌরসভার আমির হিসেবে সাতবছর দায়িত্ব পালন করেন (১৯৯৩-১৯৯৯)।

১৯৯৯ সালে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার আহমদিয়া ফাজিল মাদরাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। ওই বছর বাগেরহাট জেলা জামায়াতের সদস্য পদ লাভ করেন। ২০০৪ সালে সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে বাগেহাট জেলা আমির নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলা আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য, খুলনা অঞ্চল টিমের সদস্য ও বাগেরহাট জেলার কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পালন করছেন।

জয়লাভের পর অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের মানুষ জুলুমের জাঁতাকল থেকে মুক্তি পেয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাকে মানুষের খেদমত করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমানতদারী ও দায়িত্বশীলতার স্থান থেকে কাজ করব। আমার কাছে সংখ্যাগুরু আর সংখ্যালঘু কোনো বিভেদ নেই। সকলের একটাই পরিচয় আমরা বাংলাদেশী।’