মদন (নেত্রকোণা) সংবাদদাতা
নেত্রকোনার মদনে বিদেশে চাকরি দেয়ার প্রলোভনে ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া মামলার প্রধান আসামি খসরু পারভেজ ভূঁইয়া (৩৫)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানা পুলিশের সহযোগিতায় মদন থানা পুলিশ ইটনা উপজেলার বাদলা গ্রামের তানেশ্বর এলাকা থেকে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিবাগত রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মহন তালুকদার মিয়া বাদী হয়ে মদন থানার দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: হাসানুর রহমান ও এসআই শাকিব ইটনা থানা সহযোগিতায় পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে আটক করে।
ভুক্তভোগী ও মামলায় এজহার সূত্রে জানা যায়, মানব প্রচারকারী দালাল প্রতারক চক্রের মূল হোতা খসরু ওরফে পারভেজ ভূঁইয়া ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ভুক্তভোগী মোহন তালুকদার (৩২)কে গত ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে সৌদি আরব মোটা অংকের বেতনের চাকরির কথা বলে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।
সৌদি আরবের যাওয়ার পর বহুতল ভবনের একটি রুমে তাকে আটকে রেখে মানসিক শারীরিক নির্যাতন করেন। পরে বাড়ি থেকে সর্বমোট সাড়ে ১১ লাখ টাকা নিয়ে মুক্তিপণ দিয়ে দেশে ফিরে এসে খসরু ওরফে পারভেজকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন তাদের বিরুদ্ধে।
ওই মামলার প্রধান আসামি মূল হোতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছে।
মামলার বাদী মোহন জানায়, তাকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে তাকে বিদেশে পাঠিয়ে মানসিক ও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়। নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় আরো মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এদিকে, মামলার বাদী ভুক্তভোগী মোহন মিয়া প্রধান আসামি গ্রেফতার হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান তিনি।
মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সালাউদ্দিন করিম বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি মদন থানায় রুজু করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’



