বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম বলেছেন, ‘বন্ধ পাটকল চালু করে বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই রয়েছে বন্ধ পাটকল পুনরায় চালু করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘কিছু বন্ধ পাটকল চালু করা হয়েছে। আবার অনেকগুলো চালুর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার নোয়াপাড়ায় জামদানী ভিলেজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, তাঁত বোর্ডের সদস্য মো: মিজানুর রহমান, তাঁত বোর্ডের সদস্য দেবাশীষ নাগ, যুগ্মসচিব মো: জাহিদ হাসান, প্রকল্প পরিচালক আইয়ুব আলী, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক মো: কুতুব উদ্দিন, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: সাইফুল ইসলাম।
বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের পরিচালনায় ঢাকাই মসলিন হাউজ ও জামদানি ভিলেজ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মসলিন বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্য। আমরা এই ঐতিহ্যকে অন্বেষণ করার জন্য সুদূর ইংল্যান্ড পর্যন্ত গিয়েছি। আমরা সেখান থেকে এই ঐতিহ্য নিয়ে এসেছি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এক্সপার্ট যারা আছেন তাদের খুঁজে বের করে ইতোমধ্যে এটার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে ডিএনএ টেস্ট করে এটার প্রকৃত অবস্থান নির্ণয় করে এটাকে সংরক্ষণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গবেষণা কার্যক্রম, মার্কেট প্রসার, বীজের বিভিন্ন ডাইভাসিফিকেশন, বিভিন্ন উন্নত জাত এগুলো অন্বেষণ করা এটার কাজই এখান থেকে হবে। এই প্রকল্পের মেয়াদ এ বছর শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটি যাতে সূচারুরূপে সম্পন্ন করার হয় এজন্য আমরা প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করার চিন্তা ভাবনা করছি। এটার প্রাথমিক কাজ মাটি ভরাট, সীমানা দেয়াল, ড্রেনেজসহ সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখানে ছয়তলা ও তিনতলা দু’টি ভবন হবে। চলতি অর্থ বছরেই যারা আগ্রহী তাদের কাছে মসলিন প্রযুক্তিটি হস্তান্তর করা হবে।’
পরে দেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানী শিল্পের উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাস্তবায়নাধীন জামদানী ভিলেজ প্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ও স্থানীয় তাঁতিদের সাথে মতবিনিময় করেন। আব-ই-রওয়ান প্রদর্শনীকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। জামদানী কাপড় তৈরির বিভিন্ন ধাপ ও চরকা দিয়ে কার্পাস তুলা থেকে সুতা তৈরি ও সেই সুতা দিয়ে কাপড় তৈরির সকল ধাপ পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।



