পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ

বর্ষায় নদীতে বোল্ডার, বর্ষা শেষে ‘বোল্ডার নেই’ নীতি বন্ধ হবে

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্ষাকালকেন্দ্রিক তাৎক্ষণিক কাজের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি থেকে সর্বোচ্চ মে মাস পর্যন্ত নদী সংরক্ষণে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

Location :

Panchagarh
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর ময়নামতির চরে টি-বাঁধ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর ময়নামতির চরে টি-বাঁধ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ |নয়া দিগন্ত

রংপুর ব্যুরো ও দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা

বর্ষাকালে বোল্ডার ফেলা হবে, বর্ষা শেষ হলেই বোল্ডার নেই—এ ধরনের নীতি থেকে বেরিয়ে এসে পানি উন্নয়ন বোর্ডে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর ময়নামতির চরে টি-বাঁধ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্ষাকালকেন্দ্রিক তাৎক্ষণিক কাজের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি থেকে সর্বোচ্চ মে মাস পর্যন্ত নদী সংরক্ষণে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমেই আমরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেছি। সেখানে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি—পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্পর্কে মানুষের যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা দূর করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আপনারা রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা পান; সুতরাং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা আপনাদের দায়িত্ব। এটিই আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ।”

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, শপথ নেয়ার দুই দিন পর আমরা পানি ভবনে সভা করেছি। সেখানে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন। আমরা জানিয়েছি, অতীতের খারাপ ইমেজ দূর করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার।

বর্ষাকালভিত্তিক কাজের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্ষা এলে বোল্ডার ফেলতে হবে, বর্ষা শেষ, বোল্ডার নেই-এই নীতি কঠোরভাবে বন্ধ করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের নির্দিষ্ট সময় থাকবে-ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল, সর্বোচ্চ মে পর্যন্ত। এর বাইরে নদীতে বোল্ডার ফেলা বা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে না।

গঙ্গা চুক্তির নবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এ বিষয়ে কারিগরি পর্যায়ে কাজ চলছে, যাতে চুক্তি নবায়নের পাশাপাশি দেশের জন্য আরো সুবিধা আদায় করা যায়।

তিস্তা পানি চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। আমরা সদ্য দায়িত্ব নিয়েছি। আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ও রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়মিত অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে। সময় দিলে অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।

খাল খনন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, জলাশয় ও খাল খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মাধ্যমে সম্ভাব্য এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। ঈদের আগেই কর্মসূচির উদ্বোধনের চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, “ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলায় নদী খনন ও নদীশাসনে ৬৮ কোটি টাকার কাজের টেন্ডার দ্রুত আহ্বান করা হবে।”

এ ছাড়া কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত কেবিনেটে অনুমোদন হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। রমজানের আগে কয়েকটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং কৃষি কার্ড নিয়েও কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।