ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২ ব্যাংক ভস্মীভূত, পানির অভাবে উদ্ধার কাজ বিঘ্ন

‘প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরুপণ করা যায়নি। তবে দু’টি দোকান সম্পূর্ণভাবে, দু’টি আংশিক ও ব্যাংকের শাখা দু’টির ভেতরের সবই ভস্ম হয়েছে। পানি সঙ্কটের কারণে এত ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছে।’

মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

Location :

Saidpur
ব্যাংকের ভেতরে আগুন, (নিচে) টিনশেড দোকানে আগুন
ব্যাংকের ভেতরে আগুন, (নিচে) টিনশেড দোকানে আগুন |নয়া দিগন্ত

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে আগুন লেগে একটি বহুতল ভবনে থাকা দু’টি ব্যাংকের শাখাসহ চারটি আধাপাকা দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। পানির অভাবে উদ্ধার কাজ ব্যহত হওয়ায় আগুন প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বহাল থাকে।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে শহীদ ডা: জিকরুল হক সড়কে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির অফিসের বিপরীত পাশে একটি লেপ তোষকের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তুলা ও কাপড়ের মতো দায্য পদার্থ থাকায় মূহুর্তে আগুন ভয়াবহ রুপ নেয়। এ সময় খবর পেয়ে সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিসের দু’টি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পর্যাপ্ত পানির অভাবে উদ্ধার কাজ থমকে যায়।

পরে রংপুরের তারাগঞ্জ, দিনাজপুরের পার্বতীপুর ও নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরো তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। ফায়ার সার্ভিস বাহিনী ও সাধারণ মানুষ যৌথভাবে চেষ্টা চালিয়ে প্রায় ‍দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর মধ্যে আগুনে ফেরদৌস কটন হাউজ, আকবর কটন শপের টিনশেড আধাপাকা দোকানের মালামালসহ সর্বস্ব পুড়ে যায়। আর উত্তর পাশের রাজা বেডিং স্টোর ও একরামুল হক কটন শপের মালামাল সরানো সম্ভব হলেও রাস্তায় রাখায় উপচে পড়া মানুষের পায়ের চাপায় নষ্ট হয়।

দোকানের এই আগুনের লেলিহান শিখা পাশেই থাকা ৬ তলা ভবনে (গৌরি প্লাজা) ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা ঢাকা ব্যাংকের শাখা ও তৃতীয় তলায় ঢাকা মার্কেন্টাইল অ্যান্ড কো-অপারেটিভ ব্যাংকের শাখায় আগুন লাগে। এ সময় পানি না থাকায় ব্যাংক দু’টিতেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে সব পুড়ে যায়। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে নিচ তলায় থাকা বেস্ট বাই শোরুম অল্পের জন্য রক্ষা পায়।

আগুনের সূত্রপাত নিয়ে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকবর কটন শপের পেছন থেকে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডুলী দেখতে পাওয়া যায়। যা দ্রুত ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত এলেও পানির অভাবে আগুন নেভাতে চরম বেগ পেতে হয়। ওই সড়কের আশপাশসহ সবগুলো সড়ক তথা পুরো বাণিজ্যিক এরিয়ার কোথাও পানির উৎস নেই।

অভিযোগ রয়েছে, সৈয়দপুরে বহুতল ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড যেমন মানা হয় না, তেমনি রেলওয়ের যে পানির হাউজগুলো ছিল তা দখল করেও বহুতল ভবন করা হয়েছে। একারণে গুরুত্বপূর্ণ সব এলাকার পানির উৎস শূন্য হয়ে পড়েছে। পৌর প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসসহ উপজেলা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নির্বিকার। যে কারণে এই মার্কেট এলাকায় এই নিয়ে চারবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ঢাকা ব্যাংক সৈয়দপুর শাখা ম্যানেজার (এসএভিপি) সালাহ উদ্দিন খান বলেন, ‘সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ডেকোরেশনসহ, কম্পিউটার, এসি, মানি কাউন্ট মেশিন ও ভল্টসহ সর্বস্বই পুড়ে গেছে। বাইরে সাইনবোর্ড ও বিদ্যুতের ওয়ারিংও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু হাশেম বলেন, ‘প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরুপণ করা যায়নি। তবে দু’টি দোকান সম্পূর্ণভাবে, দু’টি আংশিক ও ব্যাংকের শাখা দু’টির ভেতরের সবই ভস্ম হয়েছে। পানি সঙ্কটের কারণে এত ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছে।’