বরগুনার তালতলীর কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: ফজলুল হক বাচ্চুর বিরুদ্ধে জেলেদের বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই ইউনিয়নের ছয় ইউপি সদস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইনকে প্রধান করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাটকা আহরণে বিরত থাকা জেলেদের মানবিক সহায়তায় কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নে দুই ধাপে ৮৩৬টি জেলে কার্ডের বিপরীতে মোট ৬৬ টন ৮৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।
তালতলী খাদ্য গুদাম সূত্র এ বরাদ্দকৃত চালের পরিমাণের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে প্রতি জেলে ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ পায়। গত ১০ এপ্রিল জেলেদের মাঝে এ চাল বিতরণ করা হয়।
এর মধ্যে ৭৬৫ জন জেলেকে ৮০ কেজি করে মোট ৬১ টন ২০০ কেজি চাল দেয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অবশিষ্ট ৭১টি জেলে কার্ডের বিপরীতে বরাদ্দকৃত ৫ টন ৬৮০ কেজি চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী ইউপি সদস্য মো: রেদওয়ান সরদার, খলিলুর রহমান, পিযুষ কান্তি হাওলাদার, পুলুকেশ মজুমদার, মনির গাজী এবং সংরক্ষিত সদস্য মাহমুদা আক্তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারীরা বলেন, বরাদ্দকৃত চাল সম্পূর্ণ বিতরণ না করে একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্যানেল চেয়ারম্যান মো: ফজলুল হক বাচ্চু বলেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি দাবি করেন, সকল জেলেকে নির্ধারিত পরিমাণ চাল দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো: খলিলুর রহমান বলেন, ‘চাল বিতরণের বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়নি এবং এখনো পর্যন্ত কোনো মাস্টাররোল তার কাছে জমা দেয়া হয়নি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জাহিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



