বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়ির পরিত্যক্ত ঘর থেকে মনিরুল ইসলাম মুনির (৩০) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের প্রবাসী আব্দুস সালামের বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মনিরুল ইসলাম একই গ্রামের জলিল খায়েরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রবাসী আব্দুস সালামের বাড়ির পরিত্যক্ত ঘরে জ্বালানি খড়ি নিতে গিয়ে খাটের নিচে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ দেখতে পান বাড়ির লোকজন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। এ সময় নিহতের পরিহিত লুঙ্গি দেখে লাশটি নিখোঁজ মনিরুলের বলে শনাক্ত করেন তার মা ও স্ত্রী।
মনিরুলের পরিবারের দাবি, সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে পুলিশ বা ডিবি পরিচয়ে একদল লোক বাড়িতে অভিযান চালালে মনিরুল আতঙ্কে পালিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। স্বজনদের ধারণা, আত্মরক্ষার্থে ওই পরিত্যক্ত ঘরে লুকিয়ে থাকার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
নিহতের স্ত্রী বিউটি খাতুন বলেন, ডিবি পুলিশ এসে খোঁজ করার পর থেকেই আমার স্বামী ভয়ে আত্মরক্ষা করতে সরে যান। আমরা ডিবি অফিস, থানা ও জেলা কারাগারে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাইনি। পরে খবর পাই আমার স্বামীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
মিজানুর রহমান নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রবাসীর পরিবার বিয়ের দাওয়াত খেয়ে বাড়িতে ফেরার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাগল বাঁধতে ও জ্বালানি খড়ি নিতে গোয়ালঘরের পাশের পরিত্যক্ত কক্ষে যায়। সেখানে দুর্গন্ধ পেয়ে টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে দেখতে পায়, খাটের নিচে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে আছে। পরে নিহতের মা ও স্ত্রী এসে পরনের লুঙ্গি দেখে লাশটি মনিরুলের বলে শনাক্ত করেন।
জাফর নামে অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, চার দিন আগে পুলিশ পরিচয়ে একদল লোক ধাওয়া দিলে মনিরুল দৌড়ে পালিয়ে যান। তখন সবাই ভেবেছিল পুলিশ হয়তো তাকে ধরে নিয়ে গেছে। সেই থেকে পরিবার ও স্থানীয়রা তাকে খুঁজছিল।
শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনাটি পুলিশ ও পিবিআই যৌথভাবে তদন্ত করছে।
ডিবি পুলিশের কেউ মনিরুলকে আটক বা গ্রেফতার করতে গিয়েছিল কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, ডিবি অফিস থেকে কেউ সেখানে অভিযানে যায়নি। আমরা শুনেছি সাদা পোশাকে তাকে ধরতে গিয়েছিল। তবে তারা কারা ছিল সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। জেলা ডিবি থেকে কেউ যায়নি।



