ঝিনাইদহ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী নিরবকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ এবং একটি পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (৮ মার্চ) সকালে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন শ্রমিকরা।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে জেলা শহরের আরাপপুরে তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেয়াকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়ার বাসিন্দা নিরবের সাথে পাম্প কর্মচারীদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় রোববার দুপুরে নিহত নীরবের পালিত পিতা শহরের বাপারীপাড়ার আবুল কাশেম বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে র্যাবের হাতে আটক সদর উপজেলার বারোইখালি গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে নাসিম, আড়ূয়াকান্দি গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে রমিজুল এবং কাস্টসাগরা গ্রামের সোফিয়ার রহমানের ছেলে আবু দাউদকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর শহরের আরাপপুর এলাকার সৃজনী ফিলিং স্টেশনেও অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ভাঙচুর চালায়। এর আগে সৃজনী এনজিওর মালিক, আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের বাড়ি এবং ইউনিলিভার ডিপোতেও হামলার ঘটনা ঘটে।
সৃজনী ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার আলামিন শেখ জানান, শনিবার মধ্যরাতে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল হঠাৎ করে পাম্পে হামলা চালিয়ে মেশিন ভাঙচুর করে। পুলিশ বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও তারা তিনটি মেশিন ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার তানভীর হাসান বলেন, রাত সাড়ে তিনটার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসে আগুন দেয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহের মুখ্য সংগঠক মীর রাকিব দাবি করেছেন, শহরে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার সঙ্গে তাদের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয়।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি শামসুল আরেফিন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
উল্লেখ্য, নিহত নিরব কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার বাদুরগাছা গ্রামের আলীমুর রহমানের ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ব্যাপারীপাড়ায় পালক পিতা আবুল কাশেমের সঙ্গে বসবাস করতেন। শনিবার রাতে তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গেলে পাম্প কর্মচারীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।



