মান্দায় বালতির পানিতে ডুবে শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

সকাল ৮টার দিকে চিৎকার শুনে তিনি তার বাবা আনোয়ার হোসেনকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তারা শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, বালতির পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার মতো কোনো দৃশ্যমান আলামত তিনি শিশুটির শরীরে দেখেননি।

এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, মান্দা (নওগাঁ)

Location :

Manda
মান্দা থানা, নওগাঁ
মান্দা থানা, নওগাঁ |নয়া দিগন্ত

নওগাঁর মান্দায় বালতির পানিতে ডুবে সোয়াদ খাঁ (৩) নামে এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়নের কাঞ্চন গ্রামের আলোক দুয়ারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু সোয়াদ খাঁ ওই গ্রামের শরিফ উদ্দিন খাঁর ছেলে।

এদিকে শিশুটির মৃত্যুর এই ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের মধ্যে চলছে নানা গুঞ্জন। দেখা দিয়েছে নানারকম প্রশ্ন। তবে পুলিশ বলছে, লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাবার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস ধরে সোয়াদ ও তার বড় ভাই সৌরভ বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী মারুফা আক্তারের তত্ত্বাবধানে ছিল। আজ বুধবার সকালে হঠাৎ শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সকালে শিশুটির বাবা শরিফ উদ্দিন ও দাদা শুকুর আলী খাঁ ব্যবসার কাজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। বড় ভাই সৌরভ তখন ঘুমিয়ে ছিল। ওই সময় বাড়িতে ছিলেন শুধু সৎ মা মারুফা আক্তার। এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে শিশুটি বালতির পানিতে ডুবে মারা গেল, তা নিয়ে কৌতূহল ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তারা।

প্রতিবেশী আমিনা খাতুন বলেন, সকাল ৮টার দিকে চিৎকার শুনে তিনি তার বাবা আনোয়ার হোসেনকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তারা শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেয়া হলে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

তার দাবি, বালতির পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার মতো কোনো দৃশ্যমান আলামত তিনি শিশুটির শরীরে দেখেননি।

নিহত শিশুর স্বজন সৌখিন মীর বলেন, শরিফ উদ্দিন ও তার প্রথম স্ত্রী শান্তি বেগম ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। সেখানে শরিফ উদ্দিনের সাথে মারুফা আক্তারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাকে দ্বিতীয় বিয়ে করলে দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

একপর্যায়ে শান্তি বেগম দুই সন্তানকে তার মায়ের কাছে রেখে ঢাকায় ফিরে যান। প্রায় তিন মাস আগে শিশু দু’টিকে নানাবাড়ি থেকে নিয়ে এসে বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। বাবা ও দাদার অনুপস্থিতিতে ছোট শিশুটির মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মারুফা আক্তার বলেন, সকালে খালের পাড়ে পাটকাঠি শুকানোর কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে তিনি শিশুটিকে বালতির পানিতে ডুবে থাকতে দেখেন। পরে তাকে তুলে হাত-পায়ে তেল মালিশ করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সবদিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।