ঝালকাঠি পৌরসভার সাতটি খাল খনন প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম ও কাজ শেষ না করার অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমির বিল্ডার্স লিমিটেডকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই নোটিশের লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) পৌরসভার জারি করা নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ঠিকাদার সাতটি খালের মধ্যে ছয়টি খালের কাজ আংশিকভাবে শুরু করলেও কোনোটিই সম্পূর্ণভাবে খনন শেষে হ্যান্ডওভার বা কমপ্লিশন সার্টিফিকেট পৌরসভাকে দেয়নি। বাকি একটি খালের কাজ শুরু করেনি।
নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, বারবার তাগাদা দেয়ার পরও ঠিকাদার দুটি খাল আংশিক খনন করেন। কিন্তু তা হস্তান্তর না করে অন্য খালগুলো খননে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি। ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে এবং পৌরসভার ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়, চুক্তিমূল্য এক কোটি ৩৩ লাখ ১২ হাজার ৩৭৭ টাকা থেকে সম্পাদিত কাজের বিল হিসেবে ৫২ লাখ ৭১ হাজার ১১ টাকা প্রদান করা হয়েছে। তবে খাল খনন সম্পূর্ণ না হওয়ায় পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে। এছাড়া ঠিকাদার কাজ শতভাগ সম্পন্ন না করে চূড়ান্ত বিলের আবেদন করেছেন এবং বিভিন্ন মহল থেকে চাপ ও হুমকিও দিয়েছেন।
ঝালকাঠি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) টি এম রেজাউল হক রিজভী বলেন, ‘ঠিকাদারকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিলে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী তার জামানত বাজেয়াপ্ত এবং ঠিকাদারী লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে।’
এ বিষয়ে আজমির বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রোপাইটার মো: সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘কাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইতোমধ্যেই এক বছর এক মাস অতিবাহিত হয়েছে। এতদিন পর হঠাৎ একটি নোটিশ জারি করা যৌক্তিক মনে হয় না। আমরা সময়মতো কাজ সম্পন্ন করার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং কাজও সম্পন্ন করেছি।’



