সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় চাহিদার চেয়ে বেশি সবজি উৎপাদন হয়। উৎপাদিত এসব সবজি সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলের হাটবাজার থেকে ব্যবসায়ীরা কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন। কেনা-বেচা সহজ হওয়ায় চাষিদের কাছে সবজি অর্থকরী ফসল হয়ে উঠেছে। সংরক্ষণের সুবিধা না থাকায় খেত থেকে উত্তোলন করেই কৃষকদের সবজি বিক্রি করতে হয়। ফলে উৎপাদিত সবজির সংরক্ষণের অভাবে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা। এতে অর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তের সম্মুখীন হওয়ায় দিন দিন সবজি চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেকেই।
সরজমিন গেলে দেখা যায়, দোয়ারাবাজার সদর, সুরমা, বাংলাবাজার, পান্ডারগাঁও, সুরমা ও দোহালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাসহ বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায়, কেবল বিষমুক্ত সতেজ সবজির হাতছানি। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শিম, লাউ, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাঁচা মরিচ সহ নানা জাতের শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে।
উপজেলার কানলার হাওরপাড়ে সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে কৃষকদের। কেউ গাছ থেকে টমেটো তুলছেন, কেউ বাঁধাকপি সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ নিবিড়ভাবে করছেন ফসলের পরিচর্যা। কৃষকদের এই কর্মযজ্ঞে পিছিয়ে নেই বাড়ির নারী ও শিশুরাও; পরিবারের সকলে মিলেই হাসি মুখে কাজ করছেন ফসলের মাঠে। তবে ফলন ভালো হলেও কৃষকদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে সবজি সংরক্ষণের অব্যবস্থাপনা। পচনশীল এসব পণ্য দ্রুত বাজারজাত করতে না পারলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে পানির দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
সবজি চাষিরা বলেন, তারা প্রচুর পরিমাণে সবজি উৎপাদন করলেও সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নেই। হিমাগার না থাকায় সবজি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কম দামে বিক্রি করে দিতে হয় তাদের। এ কারণে তারা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অথচ অনেক সময় সরবরাহ কম হলে বাইরে থেকে আনতে হয় সবজি। ফলে পণ্যের দাম ও পরিবহন খরচ মিলে বেড়ে যায় সবজির দাম। এতে করে ক্রেতাকে বেশি টাকায় সবজি কিনতে হয়।
আক্ষেপ করে স্থানীয় কৃষকরা জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাড়ভাঙ্গা খাটুনি আর পুঁজি বিনিয়োগ করে তারা সফলভাবে ফসল উৎপাদন করেও লাভবান হতে পারছেন না। চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হলেও কেবল হিমাগারের অভাবে এবং পচনশীল সবজি মজুত করতে না পেরে পানির দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সবজি সংরক্ষণের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে সস্তায় পণ্য ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক সবজি চাষীরা।
চাষিদের দাবি, সরকারিভাবে যদি সবজি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হতো কিংবা বাজারজাতকরণে বিশেষ সহায়তা পাওয়া যেত, তবে তারা ন্যায্য মূল্য পেতেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষাবাদে উৎসাহিত হতেন।
বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউড়া গ্রামের সবজি চাষি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘বাজারে সবজির দাম কমে গেলে আমরা তা ধরে রাখতে পারি না; সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা থাকলে কয়েক দিন পর ভালো দামে বিক্রি করা যেত, কিন্তু এখন পচে যাওয়ার ভয়ে আড়তদারদের দেয়া নামমাত্র দামেই সব তুলে দিতে হচ্ছে।’
হাতবদলের সাথে সাথেই সবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ তৌফিক হোসেন খাঁন বলেন, ‘সবজি সংরক্ষণ করতে না পারার কারণে উপজেলার প্রান্তিক চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একটি স্থায়ী হিমাগার নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করব।’



