ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে দু’টি ছাড়া বাকি তিনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরাজয়ের বিষয়টি দলীয় সংগঠনের দুর্বলতার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও পাবনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পাবনা জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল এলাকায় নিজ বাসভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল ইসলাম সরদার বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে পাবনায় নিজেকে বিজয়ী করার পাশাপাশি অন্য আসনগুলোতে বিএনপির প্রার্থীদের পরাজিত করে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পাবনা-৪ আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। তবে সেই চক্রান্ত শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি সফল হয়নি। জেলায় তিনটি আসনে বিএনপি পরাজিত হলেও বাকি দু’টি আসনে দলীয় প্রার্থীরা নিজ যোগ্যতায় বিজয় অর্জন করেছেন। অন্যদিকে হাবিবুর রহমান হাবিব নিজেই তার কর্মকাণ্ডের কারণে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘জেলা বিএনপির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই হাবিবুর রহমান হাবিবের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। নিজ দলের নেতাকর্মী ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিভিন্ন সময়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে তিনি সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব দলের ওপরও পড়েছে।’
সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘হাবিবের পূর্বদলের শিক্ষা মানুষের সাথে রুক্ষ ব্যবহার, অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ভোটারদের ধানের শীষের প্রতি বিরুপ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। হাবিব ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে মানুষের বাকস্বাধীনতার হুমকিস্বরূপ। তার সমালোচকদের জিহ্বা কেটে নেয়া, মসজিদ থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিতাড়িত করার হুমকি জনমনে বিএনপির প্রতি চরম বিরুপ ধারণা সৃষ্টি করেছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়কের এমন আচরণে পাবনার ভোটারদের ওপর প্রভাব পড়ছে।’
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘জেলার প্রতিটি থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডপর্যায়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের সমন্বয় করে দলকে শক্তিশালী করতে জেলা নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাসদসহ অন্যান্য দলের অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করায় দলীয় মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলেই জেলায় বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে।’
দলকে এই সঙ্কট থেকে উত্তরণ ঘটাতে এবং আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে দ্রুত পাবনা জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদার, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল মান্নানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।



