শহীদ হাদির খুনিরা দেশ, গণতন্ত্র ও ইসলামের শত্রু : জামায়াত নেতা

‘আধিপত্যবাদের নীল নকশার অংশ হিসেবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পাহারাদার অকুতোভয় সৈনিক শরিফ উসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে নস্যাৎ করে দেয়ার লক্ষ্যেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।’

চট্টগ্রাম ব্যুরো

Location :

Chattogram
বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম
বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম |নয়া দিগন্ত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে যারা হত্যা করেছে তারা দেশ, গণতন্ত্র ও ইসলামের শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বাদ জুমা বাংলাদেশ ইসলামিক অ্যাকাডেমি (বিআইএ) মসজিদে মহানগর জামায়াত আয়োজিত দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আধিপত্যবাদের নীল নকশার অংশ হিসেবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পাহারাদার অকুতোভয় সৈনিক শরিফ উসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে নস্যাৎ করে দেয়ার লক্ষ্যেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। কাজেই খুনিরা দেশের শত্রু।’

তিনি বলেন, ‘খুন করে কখনো চেতনা ধ্বংস করা যায় না। শহীদ হাদির রক্ত বৃথা যাবে না। জুলাই বিপ্লবের চেতনায় বাংলাদেশ পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াবে এবং কোনো হেজিমনির ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেবে না, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরো বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদকে আইনি মর্যাদা দেয়া এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র উত্তরণের পথ রুদ্ধ করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যেই হাদিকে খুন করা হয়েছে। এ কারণে হত্যাকারীরা গণতন্ত্রের শত্রু। যথাসময়ে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শহীদ হাদির রক্তের বদলা নিতে হবে।’

ফ্যাসিবাদীদের অপতৎপরতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চোরাগোপ্তা হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নৈরাজ্য সৃষ্টি পতিত স্বৈরাচারের চিরাচরিত অভ্যাস। ষড়যন্ত্রকারীদের পাতা ফাঁদে বাংলাদেশ আটকা পড়বে না। গণমুখী নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ও নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করেই হাদির রক্তের বদলা নেয়া হবে, ইনশাআল্লাহ। সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে এ লড়াই দীর্ঘ হবে। এ ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন ও সব ধরনের সহিংসতা পরিহার করে শত্রুদের নতুন বয়ান তৈরির সুযোগ রুখে দিতে হবে।‘

তিনি বলেন, ‘শরিফ উসমান হাদির শাহাদাতের তামান্না ছিল প্রশ্নাতীত। কথা-বার্তা, বক্তব্য ও বিবৃতিতে তিনি বার বার শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস তার বক্তব্যে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। ইসলামের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস তুলে ধরে তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের ইসলাম বিরোধিতার লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করেছেন এবং এতে তিনি সফল হয়েছেন।’

মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ কারণেই হাদির হত্যাকারীরা ইসলামেরও শত্রু। কোরআন ও হাদিসের শিক্ষার আলোকে সত্যিকার অর্থে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই শহীদের রক্তের যথার্থ বদলা নেয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।’

দোয়া মাহফিলে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও মহানগর সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিআইএ মসজিদের খতিব মাওলানা সাফওয়ান বিন হারুন আজহারী।

এ সময় নগর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য ও কোতোয়ালি থানা আমির আমির হোসাইন, চকবাজার থানা আমির আহমদ খালেদুল আনোয়ার ও খুলশী থানা আমির অধ্যাপক আলমগীর ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এতে শত শত মুসল্লি শহিদ শরিফ ওসমান হাদির জন্য কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে দোয়া করেন।