সম্মানী ভাতার পুরোটাই মসজিদ-মন্দিরে দানের ঘোষণা এমপি প্রার্থীর

‘আমরা যখন কাউকে মেয়ের জামাই বানাই, তখন তার বংশ, চরিত্র, রেকর্ড সব খুঁটিয়ে দেখি। কিন্তু যিনি আমাদের নেতা হয়ে দেশ ও এলাকার ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবেন, তাকে বেছে নেয়ার সময় সেই সতর্কতা অনেকেই রাখি না। এটা উচিত নয়। নেতা নির্বাচনে আমাদেরও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

Location :

Panchagarh
পঞ্চগড়-২ আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত এমপি প্রার্থী মো: সফিউল আলম সুফি
পঞ্চগড়-২ আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত এমপি প্রার্থী মো: সফিউল আলম সুফি |নয়া দিগন্ত

বোদা (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা

পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত এমপি প্রার্থী ও বোদা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো: সফিউল আলম সুফি এক অভূতপূর্ব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি ঘোষণা করেছেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে প্রাপ্ত মাসিক সম্মানী ভাতা তিনি নিজে বা তার পরিবারের কেউ এক টাকাও খাবেন না। বরং এই অর্থ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ-মন্দির ও এলাকার অসহায়, দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যয় করবেন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বোদা উপজেলার এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এই ঘোষণা দেন।

সফিউল আলম বলেন, ‘আমি আপনাদের সামনে দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি, যদি আমি এমপি নির্বাচিত হই, তবে সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত মাসিক ভাতার একটি টাকাও আমি নিজের জন্য বা পরিবারের জন্য ব্যয় করব না। এই সম্পূর্ণ অর্থ আমাদের এলাকার মসজিদ, মন্দির, গরিব-অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।’

তিনি ভোটারদের নেতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরো সচেতন ও বিচক্ষণ হওয়ার আহ্বান জানান। একটি জীবন্ত উদাহরণ দিয়ে সফিউল আলম বলেন, ‘আমরা যখন কাউকে মেয়ের জামাই বানাই, তখন তার বংশ, চরিত্র, রেকর্ড সব খুঁটিয়ে দেখি। কিন্তু যিনি আমাদের নেতা হয়ে দেশ ও এলাকার ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবেন, তাকে বেছে নেয়ার সময় সেই সতর্কতা অনেকেই রাখি না। এটা উচিত নয়। নেতা নির্বাচনে আমাদেরও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে। তিনি কেমন মানুষ, তার মানবিক মূল্যবোধ কেমন, তিনি কি সত্যিই মানুষের জন্য কাজ করবেন?’

স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাবেশে অংশ নেয়া অনেকেই তার এই ঘোষণাকে ‘রাজনীতিতে নৈতিকতা ও মানবসেবার বিরল দৃষ্টান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

একদল তরুণ ভোটার মন্তব্য করেন, এমন প্রতিশ্রুতি রাজনীতির মূলধারায় নতুন আশা জাগায়। সফিউল আলমের এই ঘোষণা স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।