মাদারীপুরে ভূমি অধিগ্রহণের টাকা না পেয়ে সেতু নির্মাণে বাধা

নিজেদের জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে, নির্ধারিত সময়ে সেতুর কাজ সমাপ্তি হওয়া নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে, যার ফলে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হতে পারে।

শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা

Location :

Madaripur
নির্মাণাধীন সেতু
নির্মাণাধীন সেতু |নয়া দিগন্ত

মাদারীপুরের শিবচরে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতাবাবদ ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ায় আড়িয়াল খাঁ নদের উপর নির্মাণাধীন কলাতলা-নিলখী সেতুর কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

মূল সেতুর প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও ভূমি অধিগ্রহণের টাকা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জমির মালিকরা। এর ফলে সেতুর চরকামারকান্দি প্রান্তের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় জমির মালিকরা। তবে, অপর প্রান্তের নির্মাণ কাজ কচ্ছপ গতিতে চলছে।

এই পরিস্থিতিতে, নিজেদের জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে, নির্ধারিত সময়ে সেতুর কাজ সমাপ্তি হওয়া নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে, যার ফলে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হতে পারে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৭০ মিটার দীর্ঘ ও ৯.৮৩ মিটার প্রস্থের এই সেতুর নির্মাণকাজ ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর শুরু হয়। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাদের ভূমি অধিগ্রহণ করে ৪০ শতাংশ সেতুর কাজ শেষ করার পরেও তারা ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝে পাননি। এর প্রতিবাদে তারা কলাতলা চরকামারকান্দি প্রান্তে সেতুর কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন।

নির্মাণাধীন এই সেতুটি আড়িয়াল খাঁ নদের দুই প্রান্তের কলাতলা ও নিলখীকে সংযুক্ত করবে, যা এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেতুটি নির্মিত হলে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা ও রাজৈর উপজেলা এবং ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ হবে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি নির্মিত হলে-রাজৈর, টেকেরহাট বন্দর এবং গোপালগঞ্জের মকসুদপুর থেকে শিবচরে প্রবেশের পথ প্রায় ৫০ কিলোমিটার কমে আসবে এবং এসব এলাকার অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে।

এই বিষয়ে এলজিইডির প্রকৌশলী কে এম রেজাউল করিম জানান, সেতুর কাজ চলমান আছে। আপাতত একপাশের কাজ বন্ধ থাকলেও, নদের অপর পাশের কাজ চলমান আছে।

ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি আমরা বলতে পারবো না। আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতার বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ই বলতে পারবে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ‘সংশয়ের কিছুই নেই। আমরা প্রতিনিয়তই কাজ করছি। ওখানে আড়িয়াল খাঁ নদের সেতু প্রান্তে কিছু জায়গার গভীরতা রয়েছে, যে-কারণে অধিগ্রহণের কাজ কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। আমরা কাগজপত্র ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে সেখান থেকে একটা সিদ্ধান্ত আসলেই আমরা অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা শেষ করে স্থানীয়দের নিয়ে বিষয়টি সমাধান করবো। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন-তাদের সকলেই ক্ষতিপূরণ পাবে।’

এ ব্যাপারে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভুমি অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ বুঝিয়ে দেয়ার জন্য, ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সিন্ধান্ত অনুযায়ী পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’