টাঙ্গাইলে সরকারিভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও শহরের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তা মানছে না। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করেই খোলা রাখা হয়েছে প্রতিষ্ঠান; চলছে ক্লাস ও পরীক্ষা। এ অবস্থায় টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়ায় শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে মুইদ নামের এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
মুইদ ছিল ৯ম শ্রেণীর একজন আবাসিক ছাত্র। সে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোলাবাড়ি প্রামের সোহেল রানার ছেলে। এ ঘটনার পর থেকে স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা পলাতক রয়েছেন। এ নিয়ে টাঙ্গাইলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের সাবালিয়া শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবণের নিচ থেকে মুইদকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান প্রতিষ্ঠানের এক আয়া। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুইদকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার লাশ ময়নাদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
মুইদের মা লায়লা বেগম বলেন, আমার ছেলে আমাকে অনেক সময় ফোন করে বলতো, স্কুলের সজিব স্যার ভালো না। সজিব স্যারের কারণেই আমি মারা যাব। সজিব স্যারও আমাকে ফোন করে মুইদের বিষয়ে নানা অভিযোগ দিতো। আমি দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদুল আলম শহীদ বলেন, ‘মুইদের সাথে তার বাবা মা’র ঝগড়া হয়েছে। সে পালাতে গিয়ে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছে।’
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, স্কুল ও আবাসিক বন্ধ রাখলে অভিভাবকরা বেতন দেন না। তাই শিক্ষার্থীদের বেতন তোলার জন্য সরকারি নির্দেশনা অমান্য করেই প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন মঙ্গলবার বিকেলে নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মর্গে গিয়ে শিক্ষার্থীর লাশও দেখেছি। ছেলেটির মুখ থেতলে গেছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট পেলে অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উল্লেখ্য, এর আগেও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই ঘটনাগুলো ধামাচাপা পড়ে যায়।



