কক্সবাজারের টেকনাফ সমুদ্র উপকূলে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জন জেলেকে ফেরত এনেছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিবি।
শনিবার (৯ মে) বিকেলে বিজিবি টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো: হানিফুর রহমান ভূঁইয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি জানায়, অব্যাহত প্রচেষ্টা, সমন্বিত উদ্যোগ ও মানবিক তৎপরতার মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে দেশে ফিরেছে বঙ্গোপসাগরে আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জন জেলে। তাদের মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশী ও একজন রোহিঙ্গা।
বিজিবি অধিনায়ক জানান, বিগত ২০২৫-২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে যাওয়া বেশকিছু বাংলাদেশী জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের পানিসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের পানিসীমায় প্রবেশ করলে তাদেরকে মিয়ানমার আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়। পরে আটককৃত জেলেদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয় এবং বিভিন্ন মেয়াদে তারা সেখানে আটক অবস্থায় থাকে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিজিবি কক্সবাজার রিজিয়নের উদ্যোগের ফলে আরাকান আর্মির সাথে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের ধাপে ধাপে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয় এবং পর্যায়ক্রমে তাদের হস্তান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
তিনি জানান, আজ বিজিবি’র একটি প্রতিনিধিদল নাফ নদীর শূন্য লাইনে আরাকান আর্মির কাছ থেকে মোট ১৪ জন জেলেকে গ্রহণ করে টেকনাফ জেটিঘাটে ফেরত নিয়ে আসে। বর্তমানে দেশে ফিরিয়ে আনা জেলেদের তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিজিবি টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো: হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবি সর্বদা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। মানবিক সংকট মোকাবেলায় বিজিবির পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’



