মুক্তাগাছায় ২ পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ৫ পুলিশসহ আহত ১৫

এ সময় দুই পক্ষের লোকজন লাঠিশোঠা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ১০ থেকে ১২টি দোকান ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। উভয় পক্ষের ইট-পাটকেলের আঘাতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হন।

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

Location :

Mymensingh
মুক্তাগাছার আটানি বাজারের দোকান ভাঙচুর
মুক্তাগাছার আটানি বাজারের দোকান ভাঙচুর |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পাঁচ পুলিশসহ উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের আগে থেকে উপজেলার আটানি বাজার ছোট মসজিদ এলাকায় এ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

এ সময় দুই পক্ষের লোকজন লাঠিশোঠা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ১০ থেকে ১২টি দোকান ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। উভয় পক্ষের ইট-পাটকেলের আঘাতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হন। রাত সাড়ে ৯টায় মুক্তাগাছা থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, ২ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও র‌্যাব-১৪ ঘটনাস্থলে সাঁজোয়া যান নিয়ে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণ চন্দ্র ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে আটানি বাজার ছোট মসজিদ এলাকায় শহরের পাড়াটঙ্গী এলাকার এক ভ্যানচালক ও তারাটি ইউনিয়নের ট্রলিচালকের মধ্যে যানজট নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মোদি দোকানী সোহেল ও খোকন মীমাংসা করতে চেষ্টা করেন। পরে বিকেলে পাড়াটঙ্গী এলাকার লোকজন এসে খোকন ও সোহেলের মনসুর স্টোর ও গোডাউন ভাঙচুর করে। শনিবার ইফতারের আগ মুহূর্তে তারাটি ও পাড়াটঙ্গী এলাকার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আটানি বাজার ছোট মসজিদ মোড়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এ সময় রাস্তার দু’পাশের ১০ থেকে ১২টি দোকান ভাঙচুর করেন। বিষয়টি নিয়ে রোববার সকালে স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশি বৈঠকের আহ্বান করে মীমাংসা করতে ব্যর্থ হন।

ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারাটি ও পাড়াটঙ্গী দুই এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ উত্তেজনা প্রশমিত করতে আইন প্রয়োগ করার ফলে কন্ট্রোলে চলে আসে। এ ধরনের ঘটনাকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেয়া হবে না। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে পরবর্তী কার্যক্রম কি হবে। দু’পক্ষের মাঝে সংঘর্ষে পাঁচজন পুলিশ আহত হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে তিনটি টিম অবস্থান করছে।’

এই ঘটনায় ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো: জাকির হোসেন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, জামায়াতের প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

সংসদ সদস্য মো: জাকির হোসেন বলেন, ‘ঘটনার জানার সাথে সাথেই পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলা হয়েছে। দোষী যেই দলেরই হোক তাদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’