টাঙ্গাইলের সখীপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় কুকুরের কামড়ে ৫৪ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর থেকে সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত আহতরা সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে রোববার ৩১ জন ও সোমবার দুপুর পর্যন্ত আরো ২৩ জন চিকিৎসা নেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রেহানা পারভীন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের রেজিস্ট্রার সূত্রে জানা যায়, আক্রান্তদের অধিকাংশই সখীপুর পৌরসভা, কালিয়া ইউনিয়ন, বহেড়াতৈল ইউনিয়ন, কাকড়াজান ইউনিয়ন ও গজারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ ও ২১ জন নারী রয়েছেন। এছাড়া ১০ বছরের নিচে শিশু রয়েছে নয়জন এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী রয়েছেন সাতজন।
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, রোববার দুপুরে আরবী (৪), রাসেদা (৪৫) ও শাজাহান (৩৫) নামের তিনজন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে আসেন। এরপর থেকে হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। দুপুর গড়িয়ে রাত হলেও রোগীর চাপ কমেনি। সোমবার সকালেও একই অবস্থা থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা দিয়েছে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন সঙ্কট।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, হঠাৎ করেই উপজেলায় কুকুরের ভয়াবহ আক্রমণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া ও সাধারণ মানুষের চলাফেরায় সমস্যা হবে। দ্রুত প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
আরেক বাসিন্দা হানিফ সিকদার বলেন, রাস্তাঘাটে বের হতে ভয় লাগছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। বেওয়ারিশ কুকুরগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা দরকার।
সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিকদার মো: সবুর রেজা বলেন, প্রতিদিনই নতুন নতুন মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালে ভ্যাকসিন সঙ্কট দেখা দেয়ায় রোগীদের চিকিৎসা নিতে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ না হলে জনসেবা ব্যাহত হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রেহানা পারভীন বলেন, ভ্যাকসিন সঙ্কটের বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হয়েছে। আহতরা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা পাচ্ছেন। সীমিত ভ্যাকসিন থাকায় সবাইকে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেকে বাইরের ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে চিকিৎসা নিচ্ছেন।



