যশোরের চৌগাছায় ভারত সীমান্তের বাঁওড় থেকে জিদনী ইসলাম (১৫) নামের এক বাংলাদেশী কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে মাসিলা বিওপির ক্যাম্প ও চৌগাছা থানা পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের গধাধরপুর এ ঘটনা ঘটে।
জিদনী যশোর সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের মরহুম রবিউল ইসলামের ছেলে।
জিদনীর ফুপু মানিয়া আক্তার বলেন, ‘তার পিতার মৃত্যুর পর তারা ভারতে চলে যান। সেখানে তার মায়ের সাথে বসবাস করতো। ১২ ডিসেম্বর সকালে জিদনী ভারতের বাসা থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ১৫ ডিসেম্বর তার মা শিল্পী বেগম ছেলেকে খুঁজতে বাংলাদেশে আসেন। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও জিদনীর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ১৯ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চৌগাছা সীমান্তে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরের লাশ উদ্ধারের খবর পাই। পরে ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে আন্দাজ করি লাশটি আমার ভাতিজা জিদনীর হতে পারে। পরে চৌগাছা থানায় এসে আমরা লাশ সনাক্ত করি।’
স্থানীয় বাসিন্দা গদাধরপুর গ্রামের মরহুম আন্তাজ আলীর ছেলে কৃষক আবুল কালাম বলেন, ‘সকালে আমি বাঁওড়ের পাড় দিয়ে মাঠে কাজে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়ে বাওড়ের পানিতে মানুষের লাশ ভাসছে। এ সময় আমার ডাকচিৎকারে স্থানীয় লোজন বাঁওড় পাড়ে আসে। পরে বিষয়টি আমি মাসিলা বিজিবি ক্যাম্পে জানাই। খবর পেয়ে মাসিলা বিজিবি ও চৌগাছা থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’
মাসিলা বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফরিদ হোসেন বলেন, ‘সকালে স্থানীয় এক কৃষক বাঁওড়ের পানিতে লাশ ভাসতে দেখে ক্যাম্পে খবর দেন। আমরা ঘটনাস্থলে যেয়ে চৌগাছা থানা পুলিশকে মোবাইলে জানাই। পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে লাশটি উদ্ধার করে।’
চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। উপজেলার গধাদরপুর বাঁওড় থেকে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিচয় মিলে। এ ঘটনায় চৌগাছা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরে দুপুরে ময়নাতন্তের জন্য লাশটি যশোর মর্গে পাঠানো হয়েছে।



