নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও ফতুল্লা সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাচার বসত বাড়িতে ওয়ারিশ দাবিতে ভাতিজারা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে। ঈদের আগের দিন ফতুল্লার পশ্চিম লামাপাড়া দরগা বাড়ি মসজিদ এলাকায় চাচা কাশেম মিয়ার বসত বাড়িতে তারই ভাতিজারা এ ঘটনা ঘটায়।
ঈদের ছুটিতে গত ২০ মার্চ ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে ঘটনারপরই বসত বাড়ি ভাংচুর ও নারীদের আহাজারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিতে পড়েন হৃদয় বিদারক ওই ঘটনা।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মামুন মাহমুদসহ দলীয়নেতাকর্মীরা ওই বাড়িতে গিয়ে এক লাখ টাকা অনুদান দেয়ার আশ্বাস দিয়ে আসেন।
সেই আশ্বাসনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে নারায়নগঞ্জ জেলা পরিষধ কার্যালয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এক লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বারী ভুইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, জেলা যুব দলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি।
এরআগে সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ নেতৃত্বে ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতাদের সাথে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শন করেন।
জানা গেছে, ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় প্রায় সাত শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তি। কিন্তু ২০১৬ সালে ওই জমিতে ভাগ আছে বলে দাবি করেন তার জেঠাতো ভাই। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। জমির বিরোধ নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।
এ বিরোধের জের ধরে গত ২০ মার্চ ভোরে ফারুক হোসেনের জেঠাতো ভাই রুবেল, আনিসসহ অর্ধশতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্র, রামদা, চাপাটি, লাঠিসোটা, রড, হাতুড়ি দিয়ে তাদের থাকার ঘর ভাঙচুর করে। এ সময় পানির মোটর, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়।
এবিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পরে ফতুল্লা থানা থেকে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় মামলা হয়েছে।
বিএনপির সভাপতি মামুন মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার। এরপর ওই বাড়িতে গিয়ে শুনতে পেলাম বিষয়টি কোনো রাজনৈতিকপ্রভাব বিস্তারে হয়নি। এটি তাদের পারিবারিক বিষয়। চাচা কাশেম মিয়ার বাড়িতে তার ভাতিজা আনোয়ার হোসেন আনু ও তার ভাইয়েরা ওয়ারিশ হিসেবে সম্পত্তি পাবে। এ সম্পত্তিদাবি করে ভাতিজারা আদালতে চাচার বিরুদ্ধে মামলাও করেছে। তবে কাশেম মিয়ার ভাতিজারা বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে অপরাধ করেছে। এ অপরাধের সাজা তাদের পেতে হবে। আসামিদেরও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য থানা পুলিশকে অনুরোধ করেছি।
তিনি আরো বলেন, বাড়ি ভাঙচুর করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় যদি পুলিশের কোনো গাফিলতি থাকে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করা হবে।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এ ঘটনায় সিসি ফুটেজ দেখে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।



