২০ মাস পর কবর থেকে ‎জুলাইযোদ্ধা রাব্বির লাশ উত্তোলন

ময়নাতদন্ত ছাড়াই ১৭ আগস্ট তাকে দাফন করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে দাফন করায় আদালত কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়।

মো: আব্দুল আউয়াল, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

Location :

Mymensingh
চরপুবাইল গ্রামে কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন
চরপুবাইল গ্রামে কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন |নয়া দিগন্ত

‎‎জুলাই অভ্যুত্থানে লাঠিচার্জ ও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত আবু সুফিয়ান রাব্বির (১৯) লাশ প্রায় ২০ মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে ‎আদালতের নির্দেশে চরপুবাইল গ্রামের চকপাড়া মোড় সংলগ্ন একটি মসজিদের পাশের কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য তোলা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় রাব্বির লাশ কবরে রেখে মাটি দিয়ে যায় একটি ডোমদল (মর্গ সহকারী দল)।

নিহত রাব্বির বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের চরপুবাইল গ্রামে। বাবা-মায়ের সাথে গাজীপুরের মাওনা এলাকায় বসবাস করতেন তিনি।

‎নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল থেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আনন্দ মিছিল বের হতে শুরু করে। সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্র-জনতার আনন্দ মিছিলে অংশ নেন রাব্বি। মিছিলটি ‎মাওনা শহীদি মোড় এলাকায় আসতেই একদল বিজিবি সদস্যবাহী বহরকে আটকে দিয়েছিল স্থানীয় ছাত্র-জনতা। এতে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর উস্কানিতে ছাত্র-জনতার আনন্দ মিছিলে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের লাঠিচার্জ ও ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন রাব্বি। একটি গুলি বিদ্ধ হয় রাব্বির পায়ে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাওনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা।

‎সূত্রটি আরো জানায়, ময়মনসিংহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট রাব্বির মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত ছাড়াই ১৭ আগস্ট গ্রামের বাড়ি চরপুবাইল গ্রামের একটি মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর জুলাইযোদ্ধা ও মানবাধিকার কর্মী লেবু মিয়া নামল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (শ্রীপুর আমলী) আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন।

‎‎এ বিষয়ে সিআইডির গাজীপুর জেলা এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা মো: আবু নোমান বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে লাঠিচার্জ ও ছোড়া গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হন আবু সুফিয়ান রাব্বি। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে সে সময় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে দাফন করায় আদালত কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই আদেশ অনুযায়ী বুধবার দুপুরে রাব্বির লাশ তোলা হয়।’

‎‎এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ সাব্বির হোসাইন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পুনরায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’