মিরসরাইয়ে লাখ টাকা ছিনতাই, অঝোরে কাঁদছেন বৃদ্ধ

‘আমার জমানো দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করে গায়ে পরিধানকৃত কোর্টের ভেতরের দুই পাশের পকেটে ৫০ হাজার ও এক লাখ টাকা নিয়ে বের হয়ে ব্যাংকের মূল ফটকে পৌঁছালে দু’জন মাস্ক পরিহিত যুবক হঠাৎ আমার এক পকেটে হাত দিয়ে এক লাখ টাকা টান দিয়ে নিয়ে আমাকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত চলে যায়। আমি কিছু বুঝে উঠতে পারিনি কী হলো আমার সাথে।’

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

Location :

Mirsharai
নিজের কষ্টার্জিত এক লাখ টাকা হারানোর শোকে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ মনসুর আহাম্মদ
নিজের কষ্টার্জিত এক লাখ টাকা হারানোর শোকে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ মনসুর আহাম্মদ |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ব্যাংক থেকে দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করে বের হতেই ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ মনসুর আহাম্মদ। নিজের কষ্টার্জিত এক লাখ টাকা হারানোর শোকে বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি।

রোববার (১১ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে মিরসরাই পৌর সদরের ইসলামী ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ছিনতাইয়ের শিকার বৃদ্ধ মনসুর আহাম্মদ (৬০) উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড লুদ্দাখালী গ্রামের সফল আলী মালে বাড়ির বাসিন্দা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সম্প্রতি মিরসরাই উপজেলাজুড়ে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে গেছে। গত ছয় মাসে ঘটেছে অর্ধশত চুরি-ডাকাতির মতো ঘটনা। এতে উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার মনসুর আহাম্মদ বলেন, ‘আমার জমানো দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করে গায়ে পরিধানকৃত কোর্টের ভেতরের দুই পাশের পকেটে ৫০ হাজার ও এক লাখ টাকা নিয়ে বের হয়ে ব্যাংকের মূল ফটকে পৌঁছালে দু’জন মাস্ক পরিহিত যুবক হঠাৎ আমার এক পকেটে হাত দিয়ে এক লাখ টাকা টান দিয়ে নিয়ে আমাকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত চলে যায়। আমি কিছু বুঝে উঠতে পারিনি কী হলো আমার সাথে।’

মনসুর আহাম্মদের বড় ছেলে তায়েফ বলেন, ‘কয়েকদিন আগেই আমার বিয়ে সম্পন্ন হয়। আবার বাবা প্রবাসী ছিলেন। নিজের জমানো টাকা পারিবারিক কাজে উত্তোলন করতে এসে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে বার বার ভেঙে পড়ছেন। ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের ন্যূনতম নিরাপত্তা দিতে পারছে না। সিকিউরিটি গার্ড বলছে, গেটের বাইরে কী হচ্ছে সেসব আমাদের দেখার বিষয় না। সিসিটিভি ক্যামেরা নেই প্রধান ফটকে। আমাদের সান্ত্বনা পর্যন্ত দিতে আসেনি। আমরা থানায় অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

এ বিষয়ে ইসলামি ব্যাংক পিএলসি মিরসরাই পৌর সদর শাখা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘টাকা ছিনতাইয়ের বিষয়ে জেনেছি। থানায় অভিযোগ দিতে পরামর্শ দিয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’