ভূমিকম্পে ফাটল, ঝুঁকিতে গাজীপুরের রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স

নতুন ভবনে দলিল লেখক ও সেবাগ্রহীতাদের জন্য পর্যাপ্ত বসার স্থান নেই। ভবনের আশপাশে নেই কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এলাকায় ছিনতাই-সন্ত্রাসের ঝুঁকিও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। এতে জমি কেনাবেচার বড় অঙ্কের টাকা বহন ও নিরাপত্তা দুটোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ৯০ শতাংশ দলিল লেখক ও নকল নবিশ এখনো নতুন ভবনে অফিস করতে অনাগ্রহী।

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর

Location :

Gazipur
গাজীপুরের রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের চার তলা ভবন
গাজীপুরের রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের চার তলা ভবন |ছবি : নয়া দিগন্ত

প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গাজীপুরের রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের চার তলা ভবনের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ফাটল দেখা দিয়েছে। উদ্বোধনের দুই বছরের মধ্যেই ভবনটি এই দশা। অফিসের ৪ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিদিনই চরম ঝুঁকি ও আতঙ্ক নিয়ে সেখানে কাজ করছেন। নতুন নির্মিত ভবনে এমন ফাটল দেখা দেয়ায় ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

জেলা রেজিস্ট্রার মো: মিজানুর রহমান বলেন, ভবনের ফাটল সম্পর্কে গণপূর্ত বিভাগকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারদের পরিদর্শন রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: হেজবুল কবির জানান, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে গাজীপুরের অন্তত ১২টি ভবনে ফাটল ধরেছে। রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স পরিদর্শনের জন্য একজন ইঞ্জিনিয়ার নিয়োজিত আছেন।

শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরের মারিয়ালি এলাকায় নির্মিত ভবনটি শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। সাধারণ দলিল লেখক ও নকল নবিশদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিস্বার্থে অফিসটি সেখানে স্থানান্তর করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে দলিল লেখক সমিতির নামে এলাকাটির জমি কম দামে কেনা হয়। পরে সেই একই জমি উচ্চমূল্যে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের জন্য অধিগ্রহণ করানো হয়, যা নিয়ে তখনই ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।

এছাড়া জলাভূমির ওপর নির্মাণের আগে সয়েল টেস্ট রিপোর্টে ঝুঁকির ইঙ্গিত থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয় বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা। ভবনের দুর্বল মাটি ও অনুপযুক্ত জায়গা নির্বাচনের ফলেই ভূমিকম্পে এত দ্রুত ফাটল দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মত।

নতুন ভবনে দলিল লেখক ও সেবাগ্রহীতাদের জন্য পর্যাপ্ত বসার স্থান নেই। ভবনের আশপাশে নেই কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এলাকায় ছিনতাই-সন্ত্রাসের ঝুঁকিও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। এতে জমি কেনাবেচার বড় অঙ্কের টাকা বহন ও নিরাপত্তা দুটোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ৯০ শতাংশ দলিল লেখক ও নকল নবিশ এখনো নতুন ভবনে অফিস করতে অনাগ্রহী।

জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্র জানায়, জেলার দীর্ঘ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ও শতবর্ষ পুরোনো দলিল এই ভবনের রেকর্ডরুমে সংরক্ষিত। এর মধ্যে কালীগঞ্জ (১৮৭৮), কালিয়াকৈর (১৯০৮), জয়দেবপুর (১৯১৭), শ্রীপুর (১৯৬১), কাপাসিয়া (১৯২৪) ও টঙ্গী (১৯৮০) সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সব রেকর্ড রয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ নথি থাকা সত্ত্বেও ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, দৈনিক নয়া দিগন্তে ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘দলিল লেখক সমিতি সভাপতির গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছে গাজীপুরের ৩ রেজিস্ট্রি অফিস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়- ‘সার্বিক নিরাপত্তা ও জনমত উপেক্ষা করে কেবলমাত্র ওই তিন নেতার স্বার্থে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাসিম উদ্দিন আহমেদ মিলন ও নকল নবিশ সমিতির সাবেক সভাপতি মোছাব্বির আহমেদ কিরণের গ্রামের বাড়ির পাশের ওই জমিই পরবর্তীতে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়।