জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে টেকসই জীবিকা গড়ে তুলতে মৌপালনের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি সময়োপযোগী কর্মশালা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশে জীবিকা উন্নয়নে জলবায়ু সহনশীল মৌমাছি পালন’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত কর্মশালায় জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই মৌপালন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, মৌমাছির স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, রানী মৌমাছির উৎপাদন বৃদ্ধি, গবেষণা ও উদ্ভাবন জোরদার এবং কৃষক-উদ্যোক্তাদের জন্য মৌপালনকে লাভজনক জীবিকার উৎসে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান।
সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মো: আহসানুল হক স্বপন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম ময়নুল হক, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো: সফিউল ইসলাম আফ্রাদ এবং হিট প্রকল্পের ইউএটিএফএস-এর প্রধান ও পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. মো: মসিউল ইসলাম।
দেশের শীর্ষ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ আখ গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন।
এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গাকৃবির ডিন, পরিচালক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সহযোগী উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রফেসর ড. মো: মামুনুর রহমান। পরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. মো: আহসানুল হক, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মৌপালনের সম্ভাবনা, ‘এপিহেলথ রিসার্চ সেন্টার’ স্থাপনের পরিকল্পনা এবং প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা তুলে ধরা হয়।
প্রবন্ধ উপস্থাপনার পর ভাইস-চ্যান্সেলরের (ভিসি) নেতৃত্বে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং আলোচনায় মৌপালনের সম্ভাবনা, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার কৌশল ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব উঠে আসে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিসি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে মৌপালন শুধু একটি কৃষি কার্যক্রম নয়; এটি টেকসই জীবিকা, পুষ্টি নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে এ খাতকে আরো এগিয়ে নিতে হবে।’
তিনি গাকৃবিতে অনুষ্ঠিতব্য ২য় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘মৌপালন’ বিষয়ে পৃথক সেশন রাখার কথাও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে আলওয়ান হানি মিউজিয়াম অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পক্ষ থেকে ভিসিকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে প্রতীকী একটি মৌচাক প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ জ্ঞান বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং টেকসই মানবিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে; যা ভবিষ্যতে দেশের কৃষি ও গ্রামীণ জীবিকা উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



