চৌদ্দগ্রামে ছুরিকাঘাতে অটোরিকশাচালক নিহত

কয়েকজন কিশোরগ্যাংয়ের সদস্য বাজারের ওয়াসিমের গ্যারেজে সামনে তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে এসে শাকতলার গ্রামের লোকজনকে মারধর শুরু করে। ঘটনা চলাকালে শাকতলার গ্রামের অটোরিকশাচালক হৃদয় একই গ্যারেজে অটোরিকশা রাখার জন্য ঢুকেন। এ সময় রাজিব চালক হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।

সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা)
মো: হৃদয় (২২)
মো: হৃদয় (২২) |নয়া দিগন্ত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ ছুরিকাঘাতে মো: হৃদয় (২২) নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হৃদয় ওই ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের মরহুম হেদায়েতুল্লাহ প্রকাশ হেদুর ছেলে।

ওইদিন রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যুর তথ্যটি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন।

নিহত হৃদয়ের বন্ধু রাকিব জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ধোড়করা বাজারের পূর্ব পাশে প্রান্ত ও আসিফ নামে দুই কিশোর মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে মোটরসাইকেল সাইড দেয়াকে নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনা ওইখানে শেষ হলেও পরে ঘোষতল গ্রামের রাজিব, প্রান্ত, রিফাত ও ফানসির নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন কিশোরগ্যাংয়ের সদস্য বাজারের ওয়াসিমের গ্যারেজে সামনে তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে এসে শাকতলার গ্রামের লোকজনকে মারধর শুরু করে। ঘটনা চলাকালে শাকতলার গ্রামের অটোরিকশাচালক হৃদয় একই গ্যারেজে অটোরিকশা রাখার জন্য ঢুকেন। এ সময় রাজিব চালক হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত হৃদয়ের ভাই ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই অটোরিকশাচালক। আজ তার ইনকাম কম হয়েছে বলে সন্ধ্যায় আমার কাছে থেকে চা খাওয়ার জন্য টাকা নিয়ে যায়। লোকজনের মাধ্যমে আমি জানতে পারি তাকে কিশোরগ্যাংয়ের সদস্যরা ছুরি মেরে হত্যা করেছে।’

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: আকিব মাহমুদ মাহি বলেন, ‘হৃদয়কে কিছু লোক রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে জরুরি বিভাগের নিয়ে আসে। আমরা তার বুকের ডানপাশে গভীর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। ধারণা করা হচ্ছে ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগে তার মৃত্যু হয়।’

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে অভিযানে নেমে পড়েছি। তবে ঠিক কী কারণে হৃদয়কে হত্যা করা হয়েছে তা জানারও চেষ্টা করছি। অভিযুক্তরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কিনা তা আমরা খতিয়ে দেখছি।’