বর্গাচাষী হান্নানের স্বপ্ন ডুবে গেল হাওরের পানিতে মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

হান্নান মিয়া আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, জমির মালিককে ফসলের ভাগ দিতে হবে, পাশাপাশি মহাজনের ঋণও শোধ করতে হবে। কিন্তু ধান না পেলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। তার মতো অনেক বর্গাচাষী একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন।

আব্দুল আজিজ, মৌলভীবাজার
হাওরপাড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হান্নান মিয়া
হাওরপাড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হান্নান মিয়া |নয়া দিগন্ত

মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি হাওরপারের জগন্নাথপুর গ্রামের বর্গাচাষী হান্নান মিয়ার সোনালি ধানের স্বপ্ন হঠাৎ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আড়াই বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন তিনি। ধার-দেনা করে বীজ, সার ও কীটনাশক কিনে দিন-রাত পরিশ্রমে ফলানো সেই ফসল টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরের পানি বেড়ে যাওয়ায় মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যায়।

শুক্রবার বিকেলে কথা হলে হান্নান মিয়া আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, জমির মালিককে ফসলের ভাগ দিতে হবে, পাশাপাশি মহাজনের ঋণও শোধ করতে হবে। কিন্তু ধান না পেলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। তার মতো অনেক বর্গাচাষী একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন। জমির মালিকানা না থাকায় ক্ষতিপূরণ বা সরকারি সহায়তা পাওয়া নিয়েও তারা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

হান্নান মিয়ার পরিবারে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছেন। ঘরে খাদ্য মজুদ নেই বললেই চলে। এ ফসল ঘরে উঠলে সারা বছরের খাদ্যের জোগান হবে—এমনটাই আশা ছিল তাদের। কিন্তু বন্যার পানিতে শুধু ফসলই নয়, জীবিকার একমাত্র ভরসাটিও হারিয়ে গেছে। এখন প্রতিবেশীদের সহায়তা ও দিনমজুরির ওপর নির্ভর করেই তাদের দিন কাটানোর আশঙ্কা।

স্থানীয় বাসিন্দা জিলু মিয়া জানান, হাওরের পানি দ্রুত বাড়ায় কৃষকরা আধাপাকা ধান কাটার সুযোগও পাননি। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বর্গাচাষীরা। জমির মালিক না হওয়ায় তাদের ঝুঁকি বেশি হলেও সুবিধা কম।

এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য মানবিক সহায়তার দাবি উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন, শুধু জমির মালিক নয়, বর্গাচাষীদের তালিকা করে জরুরি খাদ্য সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া জরুরি।

সব হারানো হান্নান মিয়ার চোখে এখন একটাই প্রত্যাশা—মানবিক সহায়তা। কেউ পাশে দাঁড়ালে আবারও নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পাবেন তিনি। ততদিন পর্যন্ত পানির নিচে ডুবে থাকা ধানের মতোই অনিশ্চয়তায় রয়ে গেছে তার ভবিষ্যৎ।