গণভোটের প্রচারণা সীমিত

বড়াইগ্রামে অধিকাংশ ভোটার জানেন না হ্যাঁ-না ভোট কী

‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ স্লোগানে সাংবিধানিক গণভোটকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ডিজিটাল বিলবোর্ড ও প্রচার-গাড়ির মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই কার্যক্রম মূলত জেলা শহরকেন্দ্রিক। জেলা শহরে ডিজিটাল বিলবোর্ড চোখে পড়লেও উপজেলা কিংবা গ্রামাঞ্চলে ভোটের গাড়ি বা মাইকিং কার্যত দেখা যায়নি।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা

Location :

Baraigram
গণভোট নিয়ে শহরের মানুুষ সচেতন হলেও গ্রামীণ এলাকার জনসাধারণ জানেন না হ্যাঁ-না ভোট কী
গণভোট নিয়ে শহরের মানুুষ সচেতন হলেও গ্রামীণ এলাকার জনসাধারণ জানেন না হ্যাঁ-না ভোট কী |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। গণভোট নিয়ে সরকারিভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু হলেও তা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শহরকেন্দ্রিক বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দারা।

নাটোরের বড়াইগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে গণভোট সম্পর্কে তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না। ফলে জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও গ্রামীণ ভোটারদের বেশিরভাগই এখনো জানেন না গণভোট কী, কেন এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এমনকি তারা জানেন না, কী কারণে হ্যাঁ বা না ভোট দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ স্লোগানে সাংবিধানিক গণভোটকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ডিজিটাল বিলবোর্ড ও প্রচার-গাড়ির মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই কার্যক্রম মূলত জেলা শহরকেন্দ্রিক। জেলা শহরে ডিজিটাল বিলবোর্ড চোখে পড়লেও উপজেলা কিংবা গ্রামাঞ্চলে ভোটের গাড়ি বা মাইকিং কার্যত দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে গণভোট হলেও গ্রামে এ নিয়ে কোনো আলোচনা বা প্রচারণা নেই। অনেক ভোটার জানেনই না, নির্বাচনের দিন সংসদ নির্বাচনের ব্যালটের পাশাপাশি আলাদা একটি গণভোটের ব্যালটও দেয়া হবে। ফলে ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকেরা।

গণভোট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লক্ষ্মীকোল বাজারের চা বিক্রেতা নাসির উদ্দিন জানান, তিনি শুধু এমপি ভোটের কথাই শুনেছেন। গণভোট কী, বা কেন এ ভোট দিতে হবে এ বিষয়ে কেউ তাকে কিছু বলেনি। তাছাড়া চা স্টলে বসে অনেকেই ভোট নিয়ে আলোচনা করলেও গণভোট নিয়ে কাউকে কিছু বলতে শোনেননি তিনি।

রয়না গ্রামের অটোচালক আব্দুল মালেক জানান, সংসদ নির্বাচনের বিষয়টি তিনি জানেন এবং আগেও ভোট দিয়েছেন। কিন্তু গণভোট কী, এ সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।

রয়না মোড়ের মুদি ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম গাজী বলেন, ‘শুনছি হ্যাঁ বা না ভোট হবে। কিন্তু বিষয়টা কী, বুঝি না। সবাই এমপি ভোটের কথাই বলছে। গ্রামে গণভোট নিয়ে কেউ কিছু জানে না।’

জোনাইল এলাকার কলেজ শিক্ষিকা শিল্পী খাতুন বলেন, ‘চেয়ারম্যান-মেম্বার আর এমপি নির্বাচনের ভোট বুঝলেও গ্রামের মানুষ গণভোট কী তা বোঝে না। গ্রামে এ ব্যাপারে এখনো কোনো প্রচার দেখিনি।’

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তোজাম্মেল হক হীরা বলেন, ‘সময়মতো কার্যকর ও ব্যাপক প্রচারণা না হলে সাধারণ ভোটাররা গণভোটের বিষয়টি না বুঝেই ভোট দিতে বাধ্য হবেন। ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ ব্যাহত হতে পারে। তাই সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের বিষয়টি সহজ ভাষায় তুলে ধরে দ্রুত উপজেলা ও ওয়ার্ডভিত্তিক প্রচারণা চালানো জরুরি।’

জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো: আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে জেলা-উপজেলা সদরের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামীণ হাটবাজার ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাইকিংসহ প্রচার-প্রচারণা শুরু করা হয়েছে। কীভাবে আরো কার্যক্রম বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সাথে সমন্বয় করা হবে।’

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘গণভোটের বিষয়ে প্রতিটি ইউনিয়ন-পৌরসভায় অবহিতকরণ সভা করা হবে। গণভোট নিয়ে লিফলেট তৈরি করা হয়েছে। ইউনিয়ন উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব লিফলেট বিতরণ করা হবে। গণভোটের বিষয়টি গ্রামাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা প্রচার-প্রচারণার কাজ করছি।’