বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সিলেটকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শাকসবজি রপ্তানি কেন্দ্রে গড়ে তুলতে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে সিলেটে একটি আধুনিক প্যাকেজিং সেন্টার স্থাপন, কৃষকদের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার ( ৩ জুলাই) সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সিলেটে বিপুল পরিমাণ শাকসবজি উৎপাদিত হলেও প্যাকেজিং ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে রপ্তানির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এসব সমস্যা দূর করা গেলে সিলেট দেশের প্রধান শাকসবজি রপ্তানি অঞ্চলে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিজ্ঞানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
পণ্যের মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজারব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।
এ বছর রপ্তানি বাড়বে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানিতে প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও জানান তিনি।
বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি এআইভিত্তিক বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরো বলেন, এআইভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরো প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে। এর ফলে কৃত্রিম সঙ্টক সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরো দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগলের খাদ্য বিতরণ, সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।



