ভোট দিতে পেরে প্রবাসীরা আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত

প্রবাসে থাকা এসব রেমিট্যান্সযোদ্ধারা কখনো রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে, কখনো বা ব্যাটে-বলে না মেলায় ভোটের সময় দেশে আসতে পারেননি। এতে যে দীর্ঘ আক্ষেপ-আকাঙ্ক্ষা, তা এবার পূরণ করতে পেরে তারা উচ্ছ্বসিত। তবে তারচেয়ে বেশি খুশি ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ দেখে।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
পোস্টাল ভোট
পোস্টাল ভোট |ফাইল ছবি

প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে আনন্দিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীরা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভোট দেয়ার সুযোগ পাওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিও কৃতজ্ঞতা তাদের। প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট বিভাগের এক লাখ তিন হাজারেরও বেশি প্রবাসী এবার পোস্টাল ভোট দিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে অনেক প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে পোস্টাল ব্যালটে। ফলে প্রবাসীদের ভোট প্রদানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এবারের গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনে কেউ হয়তো এক দশক পর ভোট দিলেন। কেউ হয়তো দেড় যুগ। এমনও প্রবাসীর দেখা মিলল, যিনি ৩৬ বছর পর ভোট দিলেন। প্রবাসে থাকা এসব রেমিট্যান্সযোদ্ধারা কখনো রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে, কখনো বা ব্যাটে-বলে না মেলায় ভোটের সময় দেশে আসতে পারেননি। এতে যে দীর্ঘ আক্ষেপ-আকাঙ্ক্ষা, তা এবার পূরণ করতে পেরে তারা উচ্ছ্বসিত। তবে তারচেয়ে বেশি খুশি ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ দেখে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশে ফেরা বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় প্রবাসীরা এমন অভিজ্ঞতার কথা বললেন। নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করে তারা বলেছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন যে এ দেশে সম্ভব, এটা এবার আমরা প্রত্যক্ষ করলাম।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যারিস্টার ও সলিসিটর আব্দুর রকিব নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে ২ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন। সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাসিন্দা রকিব সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

স্থানীয় বিলপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়ে তিনি নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘১৮ বছর পর দেশে কোনো নির্বাচনে ভোট দিলাম। ভালো লাগার এই অনুভূতি এক্সপ্লেইন করে বোঝানোর মতো নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিগত দেড় যুগ বিদেশের মাটিতে বসে নির্বাচনের খবর নিয়েছি। হানাহানি, কেন্দ্র দখল, কারচুপি শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। এবার এত সুন্দর পরিবেশে ভোট হচ্ছে, দেখে ভালো লেগেছে। মনে হয়েছে, জুলাই আন্দোলন কিছুটা হলেও সার্থক হয়েছে।’

তার বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে কমপক্ষে ১৫ জন এবার সরাসরি ভোট দিতে দেশে ফিরেছেন বলে তিনি জানান।

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এক সময়ে সিলেট নগরের ব্যস্ত সাংবাদিক সাহাবুদ্দিন সিহাব আট বছর পর ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দেশে ভোটের দিনটি বিদেশের মাটিতে সাংঘাতিক নাড়া দেয়। এক ধরনের একাকিত্ব গ্রাস করে। এবার ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’

দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছর পর দেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেলেন শাহিদুর রহমান। ১৯৯০ সালে প্রথমবার ভোট দিয়েছিলেন। এরপর আর দেশের কোনো নির্বাচনে তার ভোট দেয়া হয়নি। এবার সিলেট নগরের আম্বরখানা কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

ভোট দিতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত শাহিদুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ভোট দিয়ে খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে জীবনে অন্তত একবার আমি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলাম।’